বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর একজন সাধারণ সদস্যের অসাধারণ উদ্ভাবনী ক্ষমতা বাহিনীর সার্বিক উন্নয়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের পথে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। আনসার সদস্য আবুল হোসেন নিজ উদ্যোগে ড্রোন নির্মাণ করে যে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার নজির স্থাপন করেছেন, তা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদের সরাসরি প্রশংসা কুড়িয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বাহিনীর সদর দপ্তরে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে মহাপরিচালক আবুল হোসেনকে আমন্ত্রণ জানান এবং তার উদ্ভাবিত ড্রোন প্রযুক্তির কার্যকারিতা স্বচক্ষে পর্যবেক্ষণ করেন।
এই উদ্ভাবনী উদ্যোগের মূল কারিগর আনসার সদস্য আবুল হোসেন ২০২০ সাল থেকে নিরলস গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। তার এই দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ তিনি এ পর্যন্ত মোট ২৭টি ড্রোন বিমান সফলভাবে তৈরি করেছেন। প্রতিটি ড্রোনই দীর্ঘ সময় ধরে আকাশে সফল উড্ডয়নে সক্ষম বলে জানা গেছে। মহাপরিচালকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত প্রদর্শনীতে আবুল হোসেন তার নির্মিত ড্রোন আকাশে উড়িয়ে দেখান, যা সেখানে উপস্থিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যদের মনোযোগ আকর্ষণ করে।
মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ আনসার সদস্য আবুল হোসেনের এই ব্যতিক্রমী প্রচেষ্টার উচ্চ প্রশংসা করেন। তিনি মন্তব্য করেন, বাহিনীর একজন সদস্যের এমন সৃজনশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বাহিনীর সামগ্রিক সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মহাপরিচালক দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর মাধ্যমেই দেশ ও জাতির কল্যাণে আরও কার্যকরভাবে অবদান রাখা সম্ভব। তিনি উপস্থিত সকলের সামনে আবুল হোসেনের উদ্ভাবনকে ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী কার্যক্রমে বাহিনীর পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের আশ্বাস দেন।
এই উদ্ভাবনের গুরুত্ব তুলে ধরে মহাপরিচালক আরও জানান, প্রান্তিক পর্যায়ের সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য শিগগিরই একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। আনসার সদস্য আবুল হোসেনের এই উদ্ভাবনী প্রয়াস কেবল বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের জন্যই নয়, বরং দেশের প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এক গভীর অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা ও সুযোগ পেলে তৃণমূল পর্যায় থেকেও জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন সম্ভব।