সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) নেওয়া যে কোনো সম্মিলিত সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি ইসরায়েল কর্তৃক স্বঘোষিত ‘সোমালিল্যান্ড’-কে স্বীকৃতি দেওয়ার বিতর্কিত ঘোষণার প্রেক্ষাপটে মুসলিম বিশ্বের ঐক্য বজায় রাখতে বাংলাদেশ এই দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছে। গত শনিবার সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ২২তম বিশেষ অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই অবস্থান স্পষ্ট করা হয়। অধিবেশনে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সোমালিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ইসরায়েলের হস্তক্ষেপ এবং এর ফলে সৃষ্ট আঞ্চলিক অস্থিরতা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
উক্ত বিশেষ অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন অত্যন্ত জোরালো বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা মুসলিম বিশ্বের সংহতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। ইসরায়েলের এই তথাকথিত স্বীকৃতির ঘোষণাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে তিনি ওআইসিভুক্ত সকল দেশকে এই হঠকারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে বলেন যে, বাংলাদেশ ওআইসির যে কোনো সংকল্পের সঙ্গে একাত্ম এবং সোমালিয়ার ফেডারেল সরকারের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন অবিচল থাকবে।
আলোচনা চলাকালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয় যে, ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করার সুযোগ নেই। তৌহিদ হোসেন তার বক্তব্যে স্মরণ করিয়ে দেন যে, কোনো ধরনের অবৈধ চুক্তি বা আলোচনা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে জবরদস্তি বা একতরফা সিদ্ধান্তের পরিবর্তে ন্যায়বিচার এবং বহুপাক্ষিকতাবাদকে প্রাধান্য দেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মনে করেন, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ মূলত একটি মুসলিম প্রধান দেশের অখণ্ডতাকে বিনষ্ট করার অপচেষ্টা মাত্র, যা বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করতে হবে।
মূল অধিবেশনের আগে অনুষ্ঠিত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সভায় ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে উপস্থিত ওআইসি প্রতিনিধিরা ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি তাদের নিরবচ্ছিন্ন সংহতি প্রকাশ করেন এবং ফিলিস্তিন ইস্যুকে ওআইসির প্রধান লক্ষ্য হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করেন। সোমালিয়া ও ফিলিস্তিন—উভয় সংকটে ওআইসির শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালনের ওপর বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে। সামগ্রিকভাবে, জেদ্দার এই অধিবেশনটি মুসলিম বিশ্বের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে যেখানে বাংলাদেশ তার দায়িত্বশীল ও সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছে।