যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা পারিবারিক বিশ্বাসঘাতকতা ও ১৫ লাখ টাকার চুক্তির লোমহর্ষক বিবরণ উঠে এসেছে আদালতে। গত সোমবার রাতে শহরের লোন অফিসপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার হওয়া শাহিন কাজী মঙ্গলবার বিকেলে যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। জবানবন্দিতে শাহিন জানান, এই নৃশংস কিলিং মিশনের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন নিহতের নিজের জামাতা পরশ, যার মূল লক্ষ্য ছিল শ্বশুরের বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি গ্রাস করা। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিচারক আসামিকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে শাহিন কাজীর বরাতে জানা যায়, গত ৩ জানুয়ারি হত্যাকাণ্ডের দিন সন্ধ্যায় পরিকল্পনাকারীরা একত্রিত হয়ে মাদক সেবন করেন এবং সেখানেই হত্যার চূড়ান্ত নীল নকশা তৈরি করা হয়। ঘাতকদের সাথে ১৫ লাখ টাকার চুক্তি করা হয়েছিল, যার মধ্যে অগ্রিম হিসেবে এক লাখ টাকা এবং মারণাস্ত্র বুঝিয়ে দেওয়া হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ঘটনার রাতেই আরও চার লাখ টাকা হস্তান্তরের কথা থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতার কারণে খুনিরা সেই টাকা সংগ্রহ করতে পারেনি। তিনটি মোটরসাইকেলে মোট সাতজন এই মিশনে অংশ নিয়েছিলেন বলে গ্রেফতারকৃত শাহিন আদালতের কাছে স্বীকার করেছেন।
হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষ বিবরণে শাহিন জানান, ওই দিন আলমগীর হোসেন তার অফিস থেকে বের হওয়ার পর থেকেই তারা মোটরসাইকেল নিয়ে তার পিছু নেন। শহরের শংকরপুর বটতলা মোড় এলাকায় ফাঁকা রাস্তা পেয়ে তাদের দলের ‘শ্যুটার’ মিশুক সরাসরি আলমগীরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। গুলিবিদ্ধ হয়ে আলমগীর মোটরসাইকেল থেকে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে এবং তার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পরই ঘাতকরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে আত্মগোপনে চলে যান। এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শামীমা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের এসআই অলক কুমার দে সংবাদমাধ্যমকে জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে লোন অফিসপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে শাহিন কাজীকে গ্রেফতার করা হয়। কিসলু কাজীর ছেলে শাহিন এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করেছিলেন। এর আগে ডিবি পুলিশ এই ঘটনার মূল হোতা নিহতের জামাতা পরশ, তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী সাগর এবং শ্যুটার মিশুককে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। মূল পরিকল্পনাকারীসহ জড়িত অধিকাংশ আসামি ধরা পড়ায় এই হত্যাকাণ্ডের জট এখন পুরোপুরি খুলে গেছে বলে মনে করছে পুলিশ প্রশাসন।