সাহসী নেতৃত্ব, দেশপ্রেম এবং নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। শনিবার খুলনার বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ কারাবাস এবং নানামুখী রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েও বেগম জিয়া কখনো প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেননি। বরং তিনি স্বাধীন সাংবাদিকতা, নীতিনিষ্ঠা এবং উদার দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে একটি পরিশীলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলেছিলেন। খুলনাবাসীর প্রত্যাশা শীর্ষক এক নাগরিক সংলাপে অংশ নেওয়ার পর তিনি ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সাথে এসব স্মৃতিচারণ করেন।
দিনভর ব্যস্ত কর্মসূচির অংশ হিসেবে নজরুল ইসলাম মঞ্জু দুপুর ১২টায় বড় বাজার কাঁচা ও পাকা মাল আড়ত সমিতির আয়োজনে বেগম জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন। ব্যবসায়ী নেতা শেখ আসাদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি উল্লেখ করেন, বেগম জিয়া কেবল একজন নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন মানুষের অধিকার রক্ষার এক অবিচল রোল মডেল। তাঁর মার্জিত নেতৃত্ব এবং নমনীয় অথচ দৃঢ় অবস্থান দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। পরবর্তীতে তিনি হার্ডমেটাল গ্যালারি হার্ডওয়্যার অ্যান্ড মেশিনারী মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন, যেখানে দোয়া পরিচালনা করেন ফেরদৌস আহমেদ। প্রতিটি অনুষ্ঠানেই বক্তারা বেগম জিয়ার অভাব অনুভব করে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
বিকেলের দিকে ৩১ নম্বর ওয়ার্ড লবণচরা রাইস মিল ও চিড়ামিল মালিক সমিতির আয়োজনে ইয়াসিন আরাফাতের সভাপতিত্বে এবং এইচ এম আসলাম হোসেনের পরিচালনায় এক বিশাল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মঞ্জু আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন মানুষের হৃদয়ের শাসক। তাঁর জানাজায় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং কান্না প্রমাণ করে যে তিনি কতটা জনপ্রিয় ও সর্বজনগ্রাহ্য ছিলেন। বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়তে হলে তাঁর আদর্শ ও দেশপ্রেমকে প্রত্যেকের হৃদয়ে ধারণ করা জরুরি। রাজনৈতিক বিরোধীদের প্রতি তাঁর সহনশীলতা এবং দেশের প্রতি তাঁর মমত্ববোধ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য একটি অনুকরণীয় পাঠ হয়ে থাকবে।
উক্ত স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিলগুলোতে মহানগর ও জেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন সৈয়দা নার্গিস আলী, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, কাজী মোঃ রাশেদ, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপুসহ আরও অনেকে। রাইস মিল মালিক ও শ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানগুলো শোকাবহ কিন্তু প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও সুধীজনরা একমত পোষণ করেন যে, গণতন্ত্র রক্ষা এবং মানুষের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান ও তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শই হবে আগামীর চলার পথের পাথেয়।