খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় শ্রীলেখা সানা (৬০) নামে এক বৃদ্ধা বিধবা নারীকে নিজ বাড়িতে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের দীঘা গ্রামের নিরিবিলি পরিবেশে অবস্থিত নিজ ঘর থেকে পুলিশ তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। গত মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময় এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও বুধবার দুপুরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নিহত শ্রীলেখা সানা ওই গ্রামের মৃত ফণীন্দ্রনাথ সানার স্ত্রী। তার সন্তানরা কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে ঢাকায় অবস্থান করায় তিনি বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই ঘাতকরা তাকে রান্নাঘরের ভেতরে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের মাধ্যমে জানা গেছে, বুধবার বেলা গড়াতে থাকলেও বাড়ির ভেতরে কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করার পর ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় তারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এসময় রান্নাঘরের মেঝেতে শ্রীলেখা সানার রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পাইকগাছা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিকভাবে একে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে করা হচ্ছে এবং এর নেপথ্যের কারণ উদঘাটনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে।
সোলাদানা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পিজুষ কুমার জানান, নিহতের বাড়িটি গ্রামের মূল জনপদ থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন ও নিরিবিলি এলাকায় হওয়ায় দুর্বৃত্তরা অনায়াসেই পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। তার ছেলে-মেয়েরা সবাই ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় তিনি নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করতেন। এদিকে হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে তার সন্তানরা ঢাকা থেকে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়া জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা এলাকায় পৌঁছানোর পর এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। জনমানবহীন স্থানে এমন নৃশংস খুনের ঘটনায় দীঘা গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও শোক বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সন্দেহভাজনদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বৃদ্ধা মাকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তার সন্তানেরা, আর স্থানীয়রা দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন।