আসন্ন সংসদ নির্বাচনে খুলনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী বাবু কৃষ্ণ নন্দী বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দেশ ছেড়ে কোথাও যেতে হবে না; বরং তাদের সর্বোচ্চ সম্মান ও নিরাপত্তায় ‘জামাই আদরে’ রাখা হবে। আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর ৩টায় খুলনার ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রথমবারের মতো জামায়াতের মনোনয়নে কোনো হিন্দু প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি তার বক্তব্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ইনসাফ কায়েমের নিশ্চয়তা প্রদান করেন। তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করেন যে, জামায়াতের শাসনামলে সংখ্যালঘু তকমা ঘুচিয়ে সবাই নাগরিক সমঅধিকার ভোগ করবে।
নির্বাচনী প্রচারণায় অর্থ ও পেশিশক্তির ব্যবহারের তীব্র সমালোচনা করে কৃষ্ণ নন্দী বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল ভোট কেনার জন্য ‘টাকার বস্তার মুখ’ খুলে দিয়েছে। একটি বড় দলের মহাসচিবকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, জনগণের সমর্থন না পেয়ে তারা এখন গরু-ছাগল কেনার মতো করে হাট-বাজারে ভোটারদের কিনতে চাচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিভিন্ন জায়গায় বিকাশের মাধ্যমেও ভোট কেনার অপচেষ্টা চলছে। এর বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী কখনোই টাকা দিয়ে ভোট কেনায় বিশ্বাস করে না এবং মানুষ অর্থের বিনিময়ে নিজের বিবেক বিক্রি করবে না বলেও তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জনসভায় উপস্থিত হাজারো মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট ও নির্বাচনে সাধারণ মানুষ যোগ্যদেরই বেছে নেবে। জামায়াত ও ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করে তিনি আরও বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তনের সূচনা হবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে, যেখানে সাধারণ নাগরিকরা কোনো প্রলোভনে পা না দিয়ে ন্যায়ের পক্ষে রায় দেবে। সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের পর খুলনার এই বিশাল জনসমাবেশে তিনি নিজেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন এবং সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন।