ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। ভোটের বাকি আর মাত্র ১১ দিন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশের শাসনভার কাদের হাতে ন্যস্ত হচ্ছে। দেশজুড়ে নির্বাচনী উৎসবের আমেজ বিরাজ করলেও খুলনার সাধারণ ভোটারদের মাঝে একটি বিশেষ বিষয় নিয়ে চরম অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। এবারের নির্বাচনের দিনেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের প্রশ্নে গণভোট। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে টেলিভিশন, রেডিও এবং শহর-বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে বিশাল সব বিলবোর্ডের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তবুও সাধারণ মানুষের কাছে গণভোটের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও এর প্রভাব সম্পর্কে সঠিক বার্তা পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
খুলনার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনের ডামাডোলে গণভোটের বিষয়টি অনেকটা গৌণ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা, যারা মোট ভোটারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে বড় শক্তি, তাদের বড় একটি অংশ গণভোটের অর্থ ও এর গুরুত্ব সম্পর্কে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রয়েছেন। নগরীর শিববাড়ি মোড়ের চা বিক্রেতা তরুণ ভোটার মাসুমের মতো অনেকের কাছেই এটি একটি নতুন এবং জটিল বিষয়। প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাওয়ার রোমাঞ্চ থাকলেও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ নাকি ‘না’ বাক্সে সীল দেবেন, তা নিয়ে তিনি দোদুল্যমান। রাজনৈতিক মহলের একাংশ থেকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার চালানো হলেও কেন এই ভোট দিতে হবে বা এর মাধ্যমে কী ধরনের সাংবিধানিক পরিবর্তন আসবে, সে বিষয়ে সাধারণ মানুষের ধারণায় যথেষ্ট অস্বচ্ছতা রয়েছে।
প্রবীণ ভোটারদের মাঝেও একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। খালিশপুর এলাকার ষাটোর্ধ্ব ভোটার আব্দুস সোবহান জানান, এলাকার মানুষের মুখে তিনি শুনেছেন যে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে দেশে অনেক বড় পরিবর্তন আসবে। তবে সেই পরিবর্তনগুলো ইতিবাচক নাকি নেতিবাচক, অথবা জুলাই সনদের মূল ধারাগুলো আসলে কী—সে সম্পর্কে তাঁর কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। প্রচারণার জাঁকজমক থাকলেও মাঠপর্যায়ে সাধারণ ভোটারদের বুঝিয়ে বলার মতো কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। ফলে অনেক ভোটারই ভুল ব্যাখ্যার শিকার হচ্ছেন কিংবা অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন, যা একটি স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অবশ্য শিক্ষিত ও সচেতন সমাজের একটি ক্ষুদ্র অংশ এ বিষয়ে কিছুটা ধারণা রাখছেন। বিশেষ করে যারা নিয়মিত সংবাদপত্রের পাঠক কিংবা পেশাজীবী, তাদের কেউ কেউ জুলাই সনদ সম্পর্কে জানলেও সাধারণ শ্রমিক বা প্রান্তিক মানুষের কাছে বিষয়টি এখনো কুয়াশাচ্ছন্ন। সচেতন নাগরিকদের মতে, জাতীয় নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি দিনে গণভোটের আয়োজন প্রশংসনীয় হলেও ভোটারদের মাঝে সচেতনতা না থাকলে এর প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে। খুলনার বিশিষ্টজনরা দাবি করছেন, শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় যেন সহজ ও নিরপেক্ষ ভাষায় গণভোটের বিষয়বস্তু তুলে ধরা হয়। অন্যথায় ভোটাররা না জেনেই এমন কোনো সিদ্ধান্তে অংশ নেবেন, যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব সম্পর্কে তারা নিজেরাও অবগত নন।