ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ মাস হলো মাহে রমজান। আত্মশুদ্ধি আর আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ এই পুরো মাস সিয়াম সাধনায় অতিবাহিত করেন। আসন্ন রমজানকে ঘিরে যখন বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখনই রমজানের চাঁদ দেখা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বনামধন্য জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সেন্টার (আইএসি)। সংস্থাটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর আকাশে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রোববার ১ ফেব্রুয়ারি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে আইএসি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এর আগে বিভিন্ন জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষণা সংস্থার পক্ষ থেকে ধারণা করা হয়েছিল যে, ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার রমজানের চাঁদ দেখা যেতে পারে। তবে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সেন্টারের নতুন বিশ্লেষণে জানানো হয়েছে যে, ১৭ ফেব্রুয়ারি চাঁদের গঠন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও তা খালি চোখে দেখা সম্ভব হবে না। সংস্থাটির মতে, ১৯ ফেব্রুয়ারি সূর্যাস্তের পর আরব আমিরাতের আকাশে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য অর্থাৎ মাত্র এক মিনিটের জন্য নবচন্দ্র দৃশ্যমান হবে। এই পূর্বাভাসের ফলে আগেকার ধারণা থেকে সরে এসে রমজান শুরুর সম্ভাব্য সময় নিয়ে নতুন একটি বৈজ্ঞানিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে রোজা বা সিয়াম অন্যতম তৃতীয় স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার ও ইন্দ্রিয় দমন করে যে কঠোর সাধনা করা হয়, তা মূলত মুমিনের নৈতিক চরিত্র ও ধৈর্য শক্তি বৃদ্ধি করে। সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে চাঁদ দেখার একদিন পর বাংলাদেশে রমজান ও ঈদ উদযাপিত হয়। সেই ভৌগোলিক হিসেব অনুযায়ী, আরব আমিরাতে ১৯ ফেব্রুয়ারি চাঁদ দেখা গেলে বাংলাদেশের আকাশে রমজানের চাঁদ উদিত হতে পারে ২০ ফেব্রুয়ারি এবং সেই মোতাবেক ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে পবিত্র রোজা শুরু হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
রমজান মাসের শেষে শাওয়াল মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার মাধ্যমে আসে মুসলিম উম্মাহর সর্ববৃহৎ উৎসব ঈদুল ফিতর। দীর্ঘ এক মাসের আত্মত্যাগ ও সংযম শেষে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার এই আনন্দ উৎসব মূলত রমজানের সফল সমাপ্তিকেই নির্দেশ করে। খুলনাসহ সারা দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে রমজান মানেই বিশেষ আধ্যাত্মিক আবহ। তবে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত দিনক্ষণ নির্ধারিত হয় বিধায় প্রতিটি দেশের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি এবং স্থানীয় নির্ভরযোগ্য পর্যবেক্ষণের দিকেই তাকিয়ে থাকে সাধারণ মানুষ। আইএসি-র এই পূর্বাভাসটি বর্তমানে মুসলিম বিশ্বে রমজান শুরুর প্রস্তুতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।