ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি সাদিক কায়েম বলেছেন, আগামী দিনের বাংলাদেশ পরিচালনার দায়িত্ব এমন এক নেতৃত্বের হাতে ন্যস্ত করতে হবে, যাদের কাছে দেশের রাষ্ট্রীয় সম্পদ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের জানমাল এবং মা-বোনের সম্মান ও মর্যাদা সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে। তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এদেশের সচেতন নাগরিকরা আর এমন কাউকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না, যাদের শাসনামলে মানুষের মৌলিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। শনিবার রাতে সাতক্ষীরার কলারোয়া পাইলট হাইস্কুল মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কলারোয়া উপজেলা শাখা আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী গণজমায়েতে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। কলারোয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা কামারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশটি বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
সাদিক কায়েম তার বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে বলেন যে, জামায়াতে ইসলামী কেবল কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জয়ের জন্য নয়, বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার ও প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই নির্বাচনী ময়দানে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বিশ্বাস করেন, সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহর মতো একজন যোগ্য ও সৎ মানুষ নির্বাচিত হলে এই অঞ্চলের সামাজিক নিরাপত্তায় আমূল পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের ওপর চেপে বসা দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ড চিরতরে বন্ধ হবে এবং প্রতিটি নাগরিকের সম্পদ ও ব্যক্তিগত সম্মান সুরক্ষিত থাকবে।
বিশাল এই নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াজ্জম হোসাইন হেলাল। এছাড়া সাতক্ষীরা-১ আসনের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ নিজে উপস্থিত থেকে এলাকার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল এবং জাকসু এজিএস মাসুদ রানাসহ ছাত্র ও যুব সমাজের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা ঐক্যবদ্ধভাবে একটি ইনসাফপূর্ণ সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং ভোটারদের প্রতি ইনসাফ কায়েমের পক্ষে রায় দেওয়ার আহ্বান জানান।
গণজমায়েতটি কলারোয়া ও তালা এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি করেছে। বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে সমাবেশস্থল ছাপিয়ে আশপাশের রাস্তাগুলোতেও ভিড় ছড়িয়ে পড়ে। বক্তারা আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন যে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং একটি দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে জনগণের প্রত্যক্ষ সমর্থনে গঠিত সরকারের কোনো বিকল্প নেই। গভীর রাত অবধি চলা এই সমাবেশে নেতৃবৃন্দ আগামী দিনের একটি শান্তিময় ও বৈষম্যহীন সাতক্ষীরা গড়ার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরেন।