খুলনা মহানগরীর প্রবেশদ্বার জিরোপয়েন্ট এলাকায় অবস্থিত ‘শিকদার ফিলিং স্টেশন’ থেকে গভীর রাতে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল সরিয়ে নেওয়ার একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার পর থেকে আসলাম শিকদারের মালিকানাধীন এই পাম্পটিতে এক অস্বাভাবিক তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। সাধারণ মানুষ যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক সেই সময়ে পাম্পটি থেকে ড্রাম ভর্তি করে তেল সরিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন। জ্বালানি তেলের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি এবং সংকটের আশঙ্কার মুখে এমন রহস্যময় কর্মকাণ্ড পুরো এলাকায় ব্যাপক কৌতুহল ও সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।
এই রহস্যময় তেল সরানোর প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, পাম্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বসানো সিসি ক্যামেরাগুলো ঘটনার সময় কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। অপরাধ ঢাকতেই পরিকল্পিতভাবে ক্যামেরার চোখ বন্ধ করে এই কাজ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অন্ধকারের সেই কর্মকাণ্ড পুরোপুরি আড়াল করা সম্ভব হয়নি; একটি ভিডিওচিত্রে তেল সরানোর দৃশ্য স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। দৈনিক খুলনাঞ্চল-এর কাছে সংরক্ষিত থাকা ওই ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ড্রামগুলোতে তেল ভরে সেগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাম্প কর্তৃপক্ষের এমন লুকোচুরি আচরণ সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অধিক মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে অথবা অবৈধভাবে মজুত করার লক্ষ্যেই হয়তো এই জ্বালানি পাচার করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে যখন জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিক্রয় নিয়ে কঠোর সরকারি বিধিনিষেধ ও নজরদারি রয়েছে, তখন এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা ঢেকে তেল সরানোর ঘটনাকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা যাচাই করতে পাম্পের মালিক আসলাম শিকদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোন ও ব্যক্তিগত মাধ্যমগুলোতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য বা ব্যাখ্যা মেলেনি। ঘটনার পর থেকে পাম্প কর্তৃপক্ষের এমন নিশ্চুপ থাকা সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করেছে। খুলনা মহানগরীর জিরোপয়েন্ট এলাকার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি এখন টক অফ দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে, এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকাবাসী।