
খুলনার পাইকগাছায় দারিদ্র্য ও মরণব্যাধি ক্যানসারের নির্মম কষাঘাতে পিষ্ট হয়ে নিজের কলিজার টুকরো সন্তানকে বিক্রি করার চেষ্টার এক হৃদয়বিদারক ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে জনপদকে। ক্যানসার আক্রান্ত আত্তাপ নামের এক অসহায় বাবা যখন চিকিৎসার খরচ জোগাতে না পেরে চরম নিরুপায় হয়ে নিজের সন্তানকে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন, তখন বিষয়টি দ্রুত জানাজানি হয়ে পড়ে। এই সংবাদটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই মানবিক দিক বিবেচনা করে তার সুচিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। বর্তমানে আত্তাপের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে আজ সোমবার (৩০ মার্চ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আত্তাপের শারীরিক অবস্থার ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ নিতে ছুটে যান খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং খুলনা জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী। তিনি ক্যানসার আক্রান্ত আত্তাপের শয্যাপাশে বেশ কিছু সময় অবস্থান করেন এবং তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা প্রদান করেন। একজন পিতার এমন চরম অসহায়ত্বের কথা শুনে তিনি গভীরভাবে ব্যথিত হন এবং আত্তাপের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথে যাবতীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এ সময় তার সাথে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আত্তাপের চিকিৎসার বিষয়টি এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যে অভাবের তাড়নায় তিনি এমন মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিলেন, সেই আর্থিক সংকট নিরসনেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সমাজের অসহায় মানুষের বিপদে এমন সংহতি প্রকাশ সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। জেলা পরিষদের প্রশাসকের এই সরাসরি হস্তক্ষেপ ও মানবিকতা প্রমাণ করে যে, সংকটকালীন সময়ে সঠিক নেতৃত্ব ও সঠিক উদ্যোগ একটি পরিবারের ধ্বংস হয়ে যাওয়া স্বপ্নকে পুনরায় বাঁচিয়ে তুলতে পারে।
বর্তমানে আত্তাপ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এমন সংবেদনশীলতা বজায় থাকলে কোনো পিতাকেই আর চিকিৎসার অভাবে নিজের সন্তানকে বিক্রির মতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে হবে না। আত্তাপ যাতে দ্রুত সুস্থ হয়ে পুনরায় তার পরিবারের ছায়া হয়ে ফিরতে পারেন, সেই প্রার্থনা ও প্রত্যাশা এখন সবার মনে।