
খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় বাসন্তী পূজার পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ করে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অশালীন নৃত্য পরিবেশনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনমনে চরম ক্ষোভ ও উত্তজনা বিরাজ করছে। গত ২৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে আয়োজিত নবমীর অনুষ্ঠানে সুস্থ ধারার সংস্কৃতির পরিবর্তে এমন কুরুচিপূর্ণ পরিবেশনা প্রদর্শিত হয়েছে, যা ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী। উৎসবের আবহে যেখানে ভক্তি ও শুদ্ধ সংস্কৃতির চর্চা হওয়ার কথা, সেখানে এমন চটুল ও অশ্লীল নৃত্যের আয়োজন সাধারণ দর্শক ও ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। বিষয়টি কেবল দৃষ্টিকটুই নয়, বরং স্থানীয় তরুণ প্রজন্মের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পাইকগাছা উপজেলা সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ ও আনুষ্ঠানিক নিন্দা জ্ঞাপন করা হয়েছে। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মঞ্চকে ব্যবহার করে এ ধরনের অপসংস্কৃতি চর্চা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা মনে করেন, আয়োজক কমিটির চরম উদাসীনতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণেই এমন বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যতে এ জাতীয় ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠানে অশালীন কর্মকাণ্ড রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে যারা এই অপসংস্কৃতি প্রসারে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত, তাদের দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি তুলেছে সাংস্কৃতিক কর্মীরা।
স্থানীয় ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ এই ঘটনায় আয়োজক কমিটির ভূমিকা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বাসন্তী পূজার মতো একটি আধ্যাত্মিক আয়োজনে এ ধরনের রুচিহীন পরিবেশনা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার শামিল। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, সুস্থ বিনোদনের নামে সামাজিক অবক্ষয়কে উসকে দেওয়ার এই প্রচেষ্টা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি এবং ভবিষ্যতে অনুমতির ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। সামাজিকভাবে এই অবক্ষয় রোধ করতে হলে সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হলেও এখন পর্যন্ত আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা দুঃখপ্রকাশ পাওয়া যায়নি। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পাইকগাছার সর্বস্তরের নাগরিক। ঐতিহ্যবাহী এই জনপদের সাংস্কৃতিক সুনাম ধরে রাখতে এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোর পবিত্রতা রক্ষায় দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি এখন মুখে মুখে ফিরছে।