
খুলনা মহানগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক করার লক্ষ্যে চলমান শলুয়া কম্পোস্ট প্লান্ট প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেছেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) মাননীয় প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। আজ সোমবার (৩০ মার্চ) তিনি সরেজমিনে নির্মাণাধীন এই বিশাল প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ঘুরে দেখেন এবং প্রকল্পের বিভিন্ন কারিগরি দিক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তাঁর সাথে সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনকালে তিনি কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রকল্পের বাকি কাজ সমাপ্ত করার জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের সময় প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু উপস্থিত কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। সেখানে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, দ্রুত বর্ধনশীল এই নগরীর জন্য একটি কার্যকর ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। শলুয়া কম্পোস্ট প্লান্টটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে নগরীর বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব হবে, যা একই সাথে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করবে এবং কৃষি কাজে জৈব সারের জোগান দিয়ে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন যেন আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে এই প্লান্টটিকে একটি মডেল হিসেবে গড়ে তোলা হয়।
কেসিসি প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, এই কম্পোস্ট প্লান্টটি নগরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে সহায়ক হবে। বর্তমানে বর্জ্য অপসারণ ও ব্যবস্থাপনায় যেসব চ্যলেঞ্জ রয়েছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে যাবে এবং খুলনার পরিবেশ সংরক্ষণে এটি একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। নগরীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বর্জ্য থেকে সার উৎপাদনের এই মহতী উদ্যোগ যাতে কোনোভাবেই আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় থমকে না যায়, সে বিষয়ে তিনি কর্মকর্তাদের সজাগ থাকার পরামর্শ দেন।
পরিদর্শন শেষে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রকল্পের কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রশাসকের এই সরাসরি তদারকি কাজের গতিকে আরও বেগবান করবে। খুলনার নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং একটি ক্লিন ও গ্রিন সিটি গড়ার যে লক্ষ্য সিটি কর্পোরেশন হাতে নিয়েছে, শলুয়া কম্পোস্ট প্লান্ট তারই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। নগরবাসী আশা করছেন, এই প্লান্টটি চালু হলে যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার সমস্যা নিরসনের পাশাপাশি শহরটি আরও বেশি স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।