কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইবি থানার অন্তর্গত গোস্বামী দুর্গাপুর ইউনিয়নের মাগুরা কালিতলা এলাকায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের এক প্রেমকাহিনি শেষ হলো বিষাদময় মৃত্যুতে। নোয়াখালীর লক্ষ্মীপুর থেকে প্রেমের টানে সুদূর কুষ্টিয়ায় ছুটে আসা মারুফ নামের এক যুবক প্রেমিকার প্রত্যাখ্যান সইতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা মোবাইল ফোনের পরিচয় যে কতটা ভয়াবহ ট্র্যাজেডির জন্ম দিতে পারে, এই ঘটনাটি তারই এক নির্মম দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিনের ভার্চুয়াল সম্পর্কের পর বাস্তবের মুখোমুখি হয়ে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকার দুয়ারে এসে শেষ পর্যন্ত তাকে না ফেরার দেশে পাড়ি জমাতে হলো।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালীর বাসিন্দা মারুফের সঙ্গে মোবাইল ফোনে পরিচয় ও গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে কুষ্টিয়ার ওই নারীর। দুই সন্তানের জননী হওয়া সত্ত্বেও ওই নারীর সঙ্গে মারুফের এই ডিজিটাল প্রেম তুঙ্গে ওঠে এবং এক পর্যায়ে তারা ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখেন। সেই স্বপ্নের টানেই মারুফ নোয়াখালী থেকে সরাসরি কুষ্টিয়ার ইবি থানা এলাকার মাগুরা কালিতলা গ্রামে প্রেমিকার বাড়িতে এসে উপস্থিত হন। তবে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে সরাসরি সামনে আসতেই তৈরি হয় জটিলতা। ওই নারী মারুফকে বিয়ে করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানালে মানসিক হাহাকার আর চরম হতাশায় ভেঙে পড়েন তিনি। নিজের ভালোবাসার মানুষকে পাওয়ার শেষ আশাটুকু ধূলিসাৎ হতে দেখে উপস্থিত সবার সামনেই তিনি সঙ্গে থাকা বিষপান করেন।
ঘটনার আকস্মিকতায় হতবিহ্বল স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত মুমূর্ষু অবস্থায় মারুফকে উদ্ধার করে হালসা বাজারের ইসলামীয়া হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এই যুবক। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর হাসপাতালের পরিবেশে এক ভারী ও গুমোট আবহ তৈরি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বিয়ের প্রস্তাবে অস্বীকৃতি জানালেও প্রেমিকের মৃত্যুর পর ওই নারী তার মরদেহের পাশে বসে অঝোরে কাঁদছিলেন, যা উপস্থিত সবার মনে এক মিশ্র ও করুণ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। ভালোবাসার এই চরম আত্মাহুতি যেন স্থানীয় জনপদে এক বিষাদমাখা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর খবর পেয়ে মরদেহের সুরতহাল ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টিকে প্রেমঘটিত কারণে আত্মহত্যা বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে পুরো ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো প্ররোচনা বা কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডিজিটাল মাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পর্কের এমন রক্তক্ষয়ী পরিণতি সমাজের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা দিয়েছে। ইবি থানা পুলিশ যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে নিহতের পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।