
যশোরের মাদক জগত ও অপরাধ চক্রের এক পরিচিত মুখ প্রিয়াকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সোমবার (৩০ মার্চ) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয়, যা সীমান্তঘেঁষা জেলা যশোরের মাদকবিরোধী কার্যক্রমে এক বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারি ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ এই অভিযান পরিচালনা করে। আটকের সময় তার হেফাজত থেকে নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়, যা তিনি খুচরা পর্যায়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত করেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
গ্রেফতারকৃত প্রিয়ার অপরাধের খতিয়ান বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানিয়েছে যে, তিনি কোনো সাধারণ কারবারি নন; বরং তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অন্তত ১৪টি মামলা রয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখে ধুলো দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনি তার মাদক সাম্রাজ্য পরিচালনা করে আসছিলেন। স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে যে, প্রিয়া মূলত এলাকার কুখ্যাত অপরাধী হিসেবে পরিচিত “পিচ্চি রাজা” নামক এক ব্যক্তির দ্বিতীয় স্ত্রী। তবে এই পারিবারিক সম্পর্কের বিষয়টি এবং তার অপরাধের গভীরতা নিশ্চিত করতে পুলিশ নিবিড়ভাবে তদন্ত ও তথ্য যাচাইয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমানে আটককৃত প্রিয়াকে সংশ্লিষ্ট থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে যাতে তার পেছনে থাকা মূল হোতা এবং মাদক সরবরাহের রুটগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় নতুন করে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। যশোরের পুলিশ প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে যে, মাদক নির্মূলে তাদের এই জিরো টলারেন্স নীতি এবং ঝটিকা অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো অপরাধীর রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় যাই হোক না কেন, মাদকের সাথে সংশ্লিষ্টতা থাকলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
যশোরের সচেতন নাগরিক সমাজ প্রশাসনের এই সাহসী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং মাদকচক্রের মূলোৎপাটনে সাধারণ মানুষের সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন পাড়া-মহল্লায় কোনো ধরনের সন্দেহজনক মাদক কারবার নজরে এলে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করা হয়। প্রিয়ার মতো পেশাদার অপরাধীদের গ্রেফাতারের ফলে যশোর অঞ্চলে মাদকের বিস্তার কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে এই মাদক সিন্ডিকেট পুরোপুরি ধ্বংস করাই এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মূল লক্ষ্য।