জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ও জনগণের ম্যান্ডেট নস্যাৎ করার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) অনুষ্ঠিত ছাত্রশিবিরের দুই দিনব্যাপী কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েট বৈঠক ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।
নূরুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে ২৫টি রাজনৈতিক দল একমত হয়ে স্বাক্ষর করলেও বর্তমানে তা একটি বিশেষ দলের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত বিজয়কে আইনি জটিলতায় নস্যাৎ করার কোনো চক্রান্ত ছাত্র-জনতা মেনে নেবে না। জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে ছাত্রশিবির রাজপথে সক্রিয় থাকবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, গত বছরের ১৭ অক্টোবর অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের সম্মতিতে ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষরিত হয় এবং ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশ অনুযায়ী চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ওই গণভোটে ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ মানুষ সনদের পক্ষে রায় দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া মানেই জনগণের সরাসরি এই রায় উপেক্ষা করার সুযোগ নয়।’
সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে ছাত্রশিবির সভাপতি অভিযোগ করেন, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন, গুম প্রতিরোধ কমিশন এবং বিচার বিভাগ পৃথক করার মতো ১৫টি মৌলিক সংস্কারের অধ্যাদেশ রহিত বা সংশোধনের পাঁয়তারা চলছে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় দলীয়করণের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
বিশেষ করে বিচারপতি নিয়োগে স্বচ্ছ বাছাই কমিটি গঠন ও সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় বাধা দিয়ে বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহসহ কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েট সদস্যদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মার্চ মাসের কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং এপ্রিল মাসের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। সভায় ক্যাম্পাস পরিস্থিতি, ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং দেশীয়-আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে আগামী দিনের করণীয় নির্ধারণ করা হয়।
এছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জনমত গঠন এবং সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণের প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে।