1. bditwork247@gmail.com : Zahid Hassan : Zahid Hassan
  2. khulnarprotichchobi@gmail.com : khulnarprotichchob :
  3. shobuj.khulna@gmail.com : al masum Shobuj : al masum Shobuj
ভূ-অভ্যন্তরে লুকিয়ে আছে অকল্পনীয় মহাসমুদ্র: বদলে যাচ্ছে পৃথিবীর সৃষ্টির ইতিহাস - khulnarprotichchobi
২রা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ| বসন্তকাল| বৃহস্পতিবার| রাত ১:৫০|
শিরোনামঃ
ভালোবাসার জয়: স্বামী ড্রাইভার, স্ত্রী হেলপার—একসাথে পথে জীবন সংগ্রাম জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্তের অভিযোগ, রাজপথে থাকার হুঁশিয়ারি ছাত্রশিবির সভাপতির ফকির লালন শাহের আখড়াবাড়ি: লোকজ সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক চেতনার এক অনন্য বাতিঘর মাথায় সামান্য আঘাতও হতে পারে প্রাণঘাতী: ‘সাবডিউরাল হেমাটোমা’ নিয়ে সতর্কবার্তা চোট কাটিয়ে কিউই শিবিরে ফিরল পেস ত্রয়ী: ল্যাথামের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সফরে শক্তিশালী নিউজিল্যান্ড ভূ-অভ্যন্তরে লুকিয়ে আছে অকল্পনীয় মহাসমুদ্র: বদলে যাচ্ছে পৃথিবীর সৃষ্টির ইতিহাস খুলনায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়া পরা আসামি ছিনতাই: এক ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানে পুনরায় গ্রেপ্তার ২ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিকতার ছোঁয়া: নির্মাণাধীন শলুয়া কম্পোস্ট প্লান্ট পরিদর্শন করলেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু গভীর রাতে সিসি ক্যামেরা ঢেকে তেল সরানোর ধুম: জিরোপয়েন্টে শিকদার ফিলিং স্টেশনে রহস্যময় কাণ্ড মোবাইল প্রেমের করুণ পরিণতি: কুষ্টিয়ায় প্রেমিকার বাড়িতে এসে বিষপানে প্রাণ হারালেন নোয়াখালীর যুবক

ভূ-অভ্যন্তরে লুকিয়ে আছে অকল্পনীয় মহাসমুদ্র: বদলে যাচ্ছে পৃথিবীর সৃষ্টির ইতিহাস

এস, এম আরাফাত আলী
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬
Spread the love

 

পৃথিবীর আদি ইতিহাস ও পানির উৎস নিয়ে এতদিন যে তাত্ত্বিক কাঠামো প্রচলিত ছিল, তাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে এক নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার। বিজ্ঞানীরা আমাদের পায়ের ঠিক ৭০০ কিলোমিটার গভীরে এক বিশাল জলভান্ডারের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন, যা আমাদের চেনা পৃথিবীর মানচিত্রকে এক নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে বাধ্য করছে। কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল যে, পৃথিবীর জন্মের প্রাথমিক পর্যায়ে বরফাবৃত ধূমকেতুর আঘাতেই এই গ্রহে পানির আগমন ঘটেছিল। তবে সাম্প্রতিক ভূতাত্ত্বিক ও সিসমিক গবেষণা সেই ধারণাকে ছাপিয়ে এক বিস্ময়কর সত্য সামনে এনেছে। নতুন এই তথ্য বলছে, পৃথিবীর ম্যান্টল স্তরের গভীরে এমন এক বিশাল জলরাশি সঞ্চিত রয়েছে, যার আয়তন ভূপৃষ্ঠের সমস্ত মহাসাগরের সম্মিলিত পানির চেয়েও কয়েক গুণ বেশি হতে পারে। এই আবিষ্কার পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন ও বিবর্তন সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের ধারণাকে আমূল বদলে দিতে শুরু করেছে।

ভূপৃষ্ঠের গভীরে অবস্থিত এই বিশাল জলভান্ডার কোনো মুক্ত জলাধার বা তরল সমুদ্র নয়। ব্রুকহেভেন ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির গবেষকরা জানিয়েছেন, এই পানি খনিজ পাথরের ভেতরে আণবিক পর্যায়ে আটকে আছে। ম্যান্টল স্তরের প্রচণ্ড চাপ ও চরম তাপমাত্রায় রিংউডাইট নামক এক বিশেষ উচ্চ-চাপ খনিজ তৈরি হয়, যা অনেকটা স্পঞ্জের মতো পানি শোষণ করে রাখতে সক্ষম। এই রিংউডাইটের স্ফটিক কাঠামোর ভেতরে পানি রাসায়নিকভাবে আবদ্ধ অবস্থায় থাকে, যা পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় পানিকে কোটি কোটি বছর ধরে স্থিতিশীল রাখছে। ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিমভাবে ম্যান্টল স্তরের পরিবেশ তৈরি করে দেখা গেছে যে, রিংউডাইট বিপুল পরিমাণ পানি নিজের ভেতরে ধারণ করতে পারে। যখন পুরো ম্যান্টল স্তরের বিশাল আয়তনের সঙ্গে এই খনিজের অনুপাত তুলনা করা হয়, তখন সঞ্চিত পানির মোট পরিমাণ অকল্পনীয় হয়ে দাঁড়ায়।

সরাসরি ৭০০ কিলোমিটার গভীরে খনন করা বর্তমান প্রযুক্তিতে অসম্ভব হলেও বিজ্ঞানীরা সিসমিক অ্যানালাইসিস বা ভূমিকম্পের তরঙ্গ বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই গুপ্ত মহাসমুদ্রের মানচিত্র তৈরি করেছেন। ভূমিকম্পের ফলে তৈরি হওয়া তরঙ্গ যখন পৃথিবীর অভ্যন্তর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন পাথরের ঘনত্ব ও উপাদানের ওপর ভিত্তি করে এর গতি পরিবর্তিত হয়। গবেষকরা লক্ষ করেছেন, নির্দিষ্ট কিছু গভীরতায় পৌঁছে এই তরঙ্গের গতি আকস্মিকভাবে ধীর হয়ে যায়, যা মূলত খনিজের ভেতরে পানির উপস্থিতির অকাট্য প্রমাণ। গবেষক শ্মান্ডট ও জ্যাকবসেন এই সিসমিক তথ্যের পাশাপাশি আরও একটি চমকপ্রদ প্রমাণ হাজির করেছেন। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সময় ভূ-অভ্যন্তরের গভীর ম্যান্টল থেকে উঠে আসা হীরার ভেতরে বিজ্ঞানীরা রিংউডাইটের ক্ষুদ্র নমুনার সন্ধান পেয়েছেন। সেই হীরার ভেতরে সুরক্ষিত অবস্থায় থাকা রিংউডাইটে পরিমাপযোগ্য পানি পাওয়া গেছে, যা তাত্ত্বিক গবেষণাকে বাস্তব রূপ দিয়েছে। এই অবিস্মরণীয় আবিষ্কার কেবল পানির উৎস সম্পর্কে নতুন বিতর্ক উসকে দেয়নি, বরং পৃথিবী নামক এই গ্রহটি কীভাবে তার সম্পদ রক্ষা করে চলেছে তার এক নতুন অধ্যায় উন্মোচন করেছে।

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025