আল-মাহফুজ শাওন
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার তেঁতুলতলা এলাকার স্লুইজ গেট একসময় ডুমুরিয়ার বিলপাবলা অঞ্চলের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে বিবেচিত হলেও বর্তমানে তা মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। গেটের একটি জলকপাট ভেঙে যাওয়ায় গত ৪-৫ দিন ধরে জোয়ারের পানি হুড়মুড় করে ভেতরে ঢুকছে। এতে বোরো ধান কর্তনের মৌসুমে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শৈলমারী নদী পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ার পর গত প্রায় তিন বছর ধরে ডুমুরিয়াসহ বিলডাকাতিয়া এলাকার পানি নিষ্কাশন তেঁতুলতলার ১০ ভেন্টের রেগুলেটরের মাধ্যমে হয়ে আসছে। আগে এই গেটটি মূলত খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে এটি ডুমুরিয়ার বিস্তীর্ণ জলাবদ্ধ অঞ্চলের প্রধান নির্ভরতায় পরিণত হয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থায় ময়ূর নদী হয়ে পানি তেঁতুলতলা রেগুলেটরের মাধ্যমে রূপসা নদীতে নিষ্কাশিত হচ্ছে।
তবে সম্প্রতি গেটের একটি জলকপাট ভেঙে যাওয়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জোয়ারের পানি অবাধে প্রবেশ করায় গুটুদিয়া ইউনিয়নের বিলপাবলা এলাকাসহ আশপাশের নিম্নাঞ্চলে অস্বাভাবিকভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে ইতোমধ্যে কর্তনকৃত ও পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গুটুদিয়া গ্রামের বাসিন্দা খান আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে গেটের ভাঙা কপাট দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকছে। একদিকে অতিবৃষ্টি, অন্যদিকে জোয়ারের পানি—দুই দিক থেকে চাপে পড়ে আমরা দিশেহারা। পাকা ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম। দ্রুত গেটটি মেরামত না করলে লবণ পানিতে ফসলি জমির মারাত্মক ক্ষতি হবে।”
জানা গেছে, স্লুইজ গেটটি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন হলেও দীর্ঘদিন ধরে খুলনা সিটি কর্পোরেশন এর রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় কৃষকরা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করেছেন এবং দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে শুধু চলতি মৌসুমের ফসলই নয়, ভবিষ্যতে জমির উর্বরতাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে স্লুইজ গেটটি মেরামত করে জোয়ারের পানি প্রবেশ বন্ধ করা এবং কৃষকদের ক্ষতি কমাতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।