আল-মাহফুজ শাওন
গৃহপরিচারিকাকে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) পপি রানী সাহা ও তার স্বামী সঞ্জয় কুমার সরকারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল ৪টার দিকে তাদের খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে বিচারক ফারুক ইকবাল এ আদেশ দেন।
এর আগে নির্যাতিত গৃহকর্মী মিলন দাশের মা মিনতি রানী বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযুক্ত এই দম্পতিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করে।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে রান্নার সময় তরকারি পুড়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গৃহকর্মী মিলন দাশের ওপর চড়াও হন এএসআই পপি রানী সাহা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মিলনকে মারধরের পাশাপাশি গরম কড়াইয়ের ছ্যাঁকা দিয়ে শারীরিক নির্যাতন করেন।
নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে দেশব্যাপী তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার জন্ম দেয়। বিষয়টি নজরে আসার পর পুলিশ বুধবার বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মিলনকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে যায় এবং এএসআই সঞ্জয় কুমার সরকার ও তার স্ত্রী পপি রানী সাহাকে হেফাজতে নেয়।
সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী মিলন দাশ নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকার বাসিন্দা উকিল চন্দ্রের মেয়ে। তিনি দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর ধরে এএসআই সঞ্জয় কুমারের বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করছিলেন।
ওসি বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর মিলনের মা খুলনায় আসার সিদ্ধান্ত নেন। পরে বুধবার রাতে বিষয়টি জানতে পেরে বৃহস্পতিবার সকালে থানায় এসে মামলা দায়ের করেন।”
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত পুলিশ দম্পতি গৃহকর্মী সম্পর্কে বিভিন্ন ভুল তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। তদন্তে এসব তথ্যের অসঙ্গতি ধরা পড়লে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, “অভিযুক্ত দু’জনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। তাদের কাছ থেকে এ ধরনের অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সব ধরনের আইনি ও মানবিক সহায়তা প্রদান করব।”
ঘটনাটি নিয়ে খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে বলে সচেতন মহল মনে করছে।