
খুলনার স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের প্রচার এবং প্রসারের লক্ষে নগরীর শিববাড়িস্থ বিসিক চত্বরে শুরু হয়েছে ১০ দিনব্যাপী বিসিক উদ্যোক্তা মেলা। রবিবার বিকেলে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই মেলার আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করা হয়। জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় এবং বিসিক খুলনা জেলা কার্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই মেলাটি স্থানীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য একটি মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ নাজমুল হক। তিনি ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন এবং মেলা প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেন।
উদ্বোধনী বক্তৃতায় প্রধান অতিথি মোহাম্মদ নাজমুল হক ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই মেলার প্রধান বিশেষত্ব হলো এটি সরাসরি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত। বিশেষ করে হস্তশিল্পের সাথে জড়িত নারী উদ্যোক্তারা এই মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিসিক মেলার মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ব্র্যান্ডিং ও বাজারজাতকরণের বিশেষ সুযোগ পান, যা সরাসরি ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে একটি স্থায়ী ও মজবুত ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরি করে। এই উদ্যোগ তৃণমূল পর্যায়ের ব্যবসার প্রসারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
খুলনা জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার দপ্তরের উপপরিচালক মোঃ আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ-আল-মাসুম এবং বিসিকের আঞ্চলিক পরিচালক বাদল চন্দ্র হালদার। অতিথিরা তাদের বক্তব্যে উদ্যোক্তাদের সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করেন এবং পণ্যের মানোন্নয়নে বিসিকের ভূমিকার প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিসিক আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক তাহেরা নাসরীণ এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিসিক জেলা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক গোলাম সাকলাইন। বক্তারা খুলনার অর্থনৈতিক উন্নয়নে ক্ষুদ্র শিল্পের অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করেন।
এবারের মেলায় বিসিক চত্বরে মোট ৪০টি সুসজ্জিত স্টল বসানো হয়েছে, যেখানে উদ্যোক্তারা তাদের হাতে তৈরি পোশাক, কুটির শিল্প সামগ্রী, ঘর সাজানোর সরঞ্জাম এবং নানা রকম খাদ্যপণ্য প্রদর্শন করছেন। মেলাটি প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত দর্শনার্থী ও ক্রেতা সাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে অতিথিরা বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং উদ্যোক্তাদের সাথে সরাসরি কথা বলে তাদের পণ্যের খোঁজখবর নেন। ১০ দিনব্যাপী এই আয়োজন আগামী দিনগুলোতে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুখরিত হয়ে উঠবে বলে আয়োজক কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করছেন।