
দেশের জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করে অধিক মুনাফা লোটার অসাধু পাঁয়তারা নস্যাৎ করে দিয়েছে প্রশাসনের বিশেষ ভিজিলেন্স টিম। সোমবার (৩০ মার্চ) প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একযোগে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করে রাখা দুই লাখ লিটারেরও বেশি জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। বাজার স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ দল এই বিশাল মজুত শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। অভিযানে মূলত ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৬৫ লিটার ডিজেল, ২২ হাজার ৫৩৯ লিটার অকটেন এবং ৪৬ হাজার ১৪৬ লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয়েছে, যা কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন গুদাম ও গোপন ডিপোতে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক সংকট নিয়ে যে হাহাকার তৈরি হয়েছিল, তার পেছনে অসাধু ব্যবসায়ীদের সুপরিকল্পিত কারসাজি ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। গোপন সংবাদ ও ভোক্তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত এই তল্লাশিতে দেখা যায়, এক শ্রেণির মুনাফালোভী চক্র কম মূল্যে তেল কিনে মজুত করে রেখেছিল যাতে বাজারে সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম হাহাকার সৃষ্টি করা যায় এবং পরবর্তীতে আকাশচুম্বী মূল্যে তা বিক্রি করা সম্ভব হয়। প্রশাসনের এই ঝটিকা অভিযানে তাদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে এবং জব্দকৃত জ্বালানি এখন সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
অভিযান সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির হাত থেকে বাঁচাতে এই ধরনের নজরদারি ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে। জব্দকৃত তেলের বিপরীতে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে যে, যারা জনগণের পকেট কাটতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানি নিয়ে জুয়া খেলবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রতিটি ডিপো ও বড় ডিলারদের নিয়মিত তদারকির আওতায় আনা হচ্ছে যাতে কেউ আর অবৈধভাবে মজুত করার সাহস না পায়।
প্রশাসনের এই বিশাল অর্জনকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ পরিবহন মালিক ও সাধারণ নাগরিকরা। খুলনাসহ সারা দেশের মানুষ আশা করছেন যে, এই বিপুল পরিমাণ তেল উদ্ধারের ফলে বাজারে সরবরাহে গতি ফিরবে এবং তেলের দাম নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল তার অবসান ঘটবে। অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার এই ধারা অব্যাহত থাকলে অচিরেই জ্বালানি খাতের শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে মনে করছেন বিশ্লষকরা।