
বাগেরহাটের মোংলা অয়েল ইনস্টলেশনে সরকারি হিসাবের বাইরে বিপুল পরিমাণ ডিজেল মজুতের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় কঠোর অবস্থানে গেছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড। রবিবার (২৯ মার্চ) কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের এক জরুরি বৈঠকে এই অনিয়মের দায়ভার নিরূপণে তিন সদস্যের একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একইসঙ্গে শৃঙ্খলা ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগে ডিপোর অপারেশন ম্যানেজার আল আমিন খানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে, যিনি ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তদন্তের স্বার্থে এবং প্রকৃত মজুদ যাচাই না হওয়া পর্যন্ত ওই ডিপো থেকে সব ধরনের জ্বালানি তেল সরবরাহ কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এই ঘটনার সূত্রপাত হয় গত শনিবার দিবাগত রাতে, যখন নৌবাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ দল মোংলা ডিপোতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে দেখা যায়, সরকারি স্টক রেজিস্টারের হিসাবের চেয়েও ১২ হাজার ৬১৩ লিটার অতিরিক্ত ডিজেল সেখানে মজুত রয়েছে। সরকারি এই জ্বালানি তেলের এমন অস্বাভাবিক বাড়তি মজুত থাকার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। অনেকেই এই ঘটনাকে জ্বালানি পাচার বা অবৈধ কারসাজির একটি বড় অংশ হিসেবে দেখছেন, যার ফলে যমুনা অয়েল কোম্পানির ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছে।
যমুনা অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আমীর মাসুদ তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, উপমহাব্যবস্থাপক (অডিট) মোহাম্মদ জোবায়ের চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটিতে ব্যবস্থাপক (অ্যাডমিন) ফয়েজ আহাম্মদ রউফকে সদস্য সচিব এবং সিনিয়র অফিসার মো. আবুল বাশারকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। উপমহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক চিঠিতে কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে মূলত ডিপোর প্রকৃত জ্বালানি পুনরায় যাচাই করা, স্টক রেজিস্টারের সাথে ভৌত মজুতের গরমিলের সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধান এবং এই দুর্নীতির পেছনে কার কার যোগসাজশ রয়েছে তা নিরূপণ করতে বলা হয়েছে।
জ্বালানি খাতের এমন অনিয়ম অবশ্য এই প্রথম নয়। এর আগে গত ১১ মার্চ নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল থেকে কুর্মিটোলা ডিপোতে যাওয়ার পথে ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল চুরির চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছিল। যদিও পদ্মা অয়েল পিএলসির তদন্তে সেই চুরির প্রমাণ মিলেছিল, কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে তখন সমালোচনা হয়েছিল। তবে মোংলার এই ডিজেল কেলেঙ্কারিতে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই একজন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত এবং সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রশাসনের কঠোর অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে। এখন তিন কার্যদিবস পর তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলের রহস্য উন্মোচিত হবে বলে আশা করছে সচেতন মহল।