
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা-২০২৬। গত ২০ ও ২১ মে দুই দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় ক্রীড়া, সংস্কৃতি, বিষয়ভিত্তিক কুইজ এবং কাবিংসহ হরেক রকমের ইভেন্টে উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের মেধার স্বাক্ষর রাখে। খুদে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত ও প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ পুরো আয়োজনটিকে এক বর্ণিল উৎসবে রূপ দেয়।
দিঘলিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার টি এম শাহ আলম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ী ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের হাতে গৌরবময় পুরস্কার ও সনদ তুলে দেন দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুজন দাশ গুপ্ত। প্রতিযোগিতার মাঠ ও মঞ্চে শিশুদের চমৎকার সব পারফরম্যান্স, খেলাধুলা এবং কুইজ ও কাবিং ইভেন্টে তাদের বুদ্ধিমত্তা ও সৃজনশীলতার প্রকাশ উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার টি এম শাহ আলম এই আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন ও সুপ্ত সৃজনশীলতা বিকাশের জন্য এই ধরনের প্রতিযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। কেবল প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিশুদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। এর মাধ্যমেই তারা আত্মবিশ্বাসী ও মানবিক গুণসম্পন্ন আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। উপজেলার প্রতিটি শিশুর প্রতিভা বিকাশে ভবিষ্যতেও এই ধরনের প্রশংসনীয় আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন দাশ গুপ্ত বলেন, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা মূলত তৃণমূলের শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশের সবচেয়ে বড় একটি রাষ্ট্রীয় প্ল্যাটফর্ম। আজকের এই শিশুরাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদেরকে যোগ্য করে তুলতে সুশিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ ও সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার মধ্য দিয়ে গড়ে তোলা আমাদের সকলের দায়িত্ব। দিঘলিয়ার এই কৃতি শিক্ষার্থীরা আগামীতে জেলা ও জাতীয় পর্যায়েও আরও বড় বড় সাফল্য অর্জন করে উপজেলার নাম উজ্জ্বল করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মনোজ্ঞ এই পুরস্কার বিতরণী উৎসবে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ, উৎসুক শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক অভিভাবক উপস্থিত থেকে শিশুদের উৎসাহিত করেন। দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনকে ঘিরে দিঘলিয়ার প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারে এক দারুণ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।