
একজন মানুষ সারা জীবন যদি অন্যের জন্য বাঁচেন, সেটাই হয় তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন। এমনই এক মহৎ প্রাণের নাম ফাদার পিয়ের লুপি — একজন ইতালীয় নাগরিক, যিনি নিজের জীবনের আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন খুলনার পথশিশুদের জীবনে। বয়স আশির কোঠায় পা রেখেও তিনি প্রতিদিন কাজ করছেন সমাজের প্রান্তিক, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে। তাঁর মুখে হাসি ফোটে যখন কোনো পথশিশু নতুন জামা পরে স্কুলে যায়, অথবা “বাবা” বলে ডেকে বুকে আশ্রয় নেয়।
রেলওয়ে লোকো কলোনি, খুলনায় প্রতিষ্ঠিত তাঁর উদ্যোগ ‘পুষ্প কানন (আশ্রয়)’ এখন অসহায় ও পথশিশুদের আশ্রয়স্থল। এখানে শিশুরা শুধু পড়াশোনা করে না, শেখে জীবনবোধ, শেখে ভালোবাসা ও মানবতার মানে। পুরোনো টিনের ছাউনির নিচে সাজানো ক্লাসরুমগুলোয় প্রতিদিন বই, খাতা আর শিশুহাসির শব্দে মুখর থাকে চারপাশ। দেয়ালে ঝোলানো আছে তাদের নানা স্মৃতি— “আনন্দ ভ্রমণ” আর উৎসবের মুহূর্তগুলো।
ফাদার পিয়ের লুপি বলেন, “এই শিশুরা আমার সন্তান। ওদের হাসিতেই আমি বাঁচি। যতদিন প্রাণ আছে, ওদের সাথেই থাকব।”
তাঁর এই মানবিক প্রয়াসে সহযোগিতা করছেন টোকাই উন্নয়ন সোসাইটির কর্মীরা। সংগঠনের অর্থবিষয়ক সম্পাদক মো. ওলিউল ইসলাম জানান, ২০১০ সাল থেকে তারা ঢাকার টঙ্গী, জয়দেবপুর, কমলাপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পথশিশুদের পাশে থেকেছেন। নতুন পোশাক, খাবার, শিক্ষা সামগ্রী ও মাদকবিরোধী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমাজে ফিরিয়ে আনছেন এসব শিশুদের।
তিনি বলেন, “আমি অসহায় শিশুদের লেখাপড়া, খাওয়া-থাকার ব্যবস্থা করছি এবং সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা নিচ্ছি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পথশিশুদের পাশে থাকব— এটাই আমার প্রতিজ্ঞা।”
পুষ্প কাননের এই ছোট্ট আশ্রয়ে এখন নিয়মিত ক্লাস চলে। শিশুদের মুখে হাসি, আর ফাদার লুপির মুখে তৃপ্তির ছায়া। সমাজ হয়তো তাঁকে চিনে না, কিন্তু শত পথশিশুর চোখে তিনি এক আলোকবর্তিকা, যাঁর মানবিক স্পর্শে অন্ধকার জীবনে জেগে ওঠে নতুন আলো।