
‘সমৃদ্ধ অর্থনীতি, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে হৃদয়ে ধারণ করে খুলনার মৎস্য খাতে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বয়রা এলাকার ফলোইমারী পশ্চিম বিল পাবলায় কার্প জাতীয় মাছের সাথে পুরুষ গলদা চিংড়ি চাষের একটি অত্যাধুনিক প্রদর্শনী খামারের উদ্বোধন করা হয়েছে। ফিস ফার্ম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ফোয়াব) এর ব্যবস্থাপনায় এবং মৎস্য বিভাগ ও আস্থা ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কারিগরি সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি কেবল একটি উদ্বোধন নয়, বরং মৎস্য চাষিদের জন্য এক মিলন মেলায় পরিণত হয়। শনিবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ৩০০ মৎস্য কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন, যা খুলনার মৎস্য সম্পদকে বিশ্বমানে উন্নীত করার এক সম্মিলিত প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্বে বক্তারা নিরাপদ মৎস্য চাষ এবং গুণগত মানসম্পন্ন চিংড়ি ও পোনা উৎপাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তারা উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ে কার্প জাতীয় মাছের সাথে পুরুষ গলদা চিংড়ির মিশ্র চাষ পদ্ধতি চাষিদের ভাগ্য বদলে দিতে এক বৈপ্লবিক ভূমিকা পালন করছে। বৈজ্ঞানিক এই পদ্ধতিতে অল্প বিনিয়োগে অধিক মুনাফা অর্জন সম্ভব হওয়ায় এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে মৎস্য খাতের অবদান তুলে ধরে বক্তারা বলেন, এ ধরনের সমন্বিত চাষ পদ্ধতি চাষিদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও বড় ভূমিকা রাখবে। প্রদর্শনী খামারটি স্থানীয় চাষিদের জন্য একটি বাস্তব শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
ফোয়াব-এর সভাপতি সামছুর রহমান শাহীনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বাবুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ মৎস্য কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে মৎস্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালক বিপুল কুমার বসাক, সিনিয়র সহকারী পরিচালক বদরুল আলম এবং যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুর মামুন তাদের মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়া এফবিসিসিআই-এর সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন জেলার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতৃবৃন্দ, কৃষিবিদ এবং সমবায় কর্মকর্তারা এই আয়োজনে সংহতি প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে মৎস্য খাতের আধুনিকায়ন নিয়ে কারিগরি দিকনির্দেশনা দেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গলদা চিংড়ি হ্যাচারি বিশেষজ্ঞ তসলিম আহমেদ এবং জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শরিফুল ইসলাম।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনার সাবেক জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব পাল, কৃষিবিদ মনিরুজ্জামান এবং ফোয়াব-এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ যথাক্রমে শেখ শাকিল হোসেন, শাফায়েত হোসেন শাওন ও ব্রজেন হালদার। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রতিনিধি হিসেবে জসিম উদ্দিন খাজা, শাহজাহান হোসেন সাজু, আলী হোসেন এবং ডুমুরিয়ার সদস্য সচিব আব্দুস সালাম বিশ্বাস সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। করপোরেট অংশীদার হিসেবে আস্থা ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের এরিয়া ম্যানেজার সজল সাহা এবং খুলনা অঞ্চলের এরিয়া ম্যানেজার মো. জাকারিয়া চাষিদের মানসম্মত খাবারের নিশ্চয়তা দেন। অনুষ্ঠানটিকে আনন্দমুখর করতে একটি কুইজ পর্বের আয়োজন করা হয়, যার পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন ল্যাব এইড ক্যান্সার স্পেশালিস্ট হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও এফবিসিসিআই-এর সহ-সভাপতি প্রার্থী সাকিব শামীম। সামগ্রিক আয়োজনটি সফল করতে চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাসের নেতৃত্বে মেলা কমিটি অক্লান্ত পরিশ্রম করে। সাংবাদিক, রপ্তানিকারক এবং বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই প্রদর্শনী খামার উদ্বোধন খুলনার মৎস্য খাতে এক নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।