
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়ায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান জনস্বার্থে বুধবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই গুরুত্বপূর্ণ আবেদনটি জমা দেন। রিট আবেদনে মূলত জননিরাপত্তা এবং ভোটারদের জীবনের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এই আবেদনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক এবং র্যাব মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনের মূল ভিত্তি হিসেবে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় বিভিন্ন থানা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দফতর থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের পরিসংখ্যানকে তুলে ধরা হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বরাতে আবেদনে জানানো হয়েছে যে, সেই সময়ে প্রায় ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯ রাউন্ড গোলাবারুদ দুর্বৃত্তদের হাতে চলে যায়। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এসব অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করলেও এখন পর্যন্ত লুণ্ঠিত অস্ত্রের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে। আইনজীবী মাহমুদুল হাসান তার আবেদনে উল্লেখ করেছেন যে, এই বিশাল পরিমাণ মারণাস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা অবস্থায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান কার্যত অসম্ভব।
নির্বাচনী নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে রিটে বলা হয়েছে যে, অবৈধ অস্ত্রের এমন ছড়াছড়ি প্রার্থী এবং সাধারণ ভোটার উভয়ের জন্যই চরম মৃত্যুঝুঁকি তৈরি করেছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝাতে ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শরিফ উসমান হাদির সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর একটি বক্তব্যকেও রিটে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে তিনি নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারকে অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছিলেন। রিটকারীর দাবি, লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে দৃশ্যমান সাফল্য ছাড়া ভোটগ্রহণ শুরু করলে তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্নে আইনজীবী মাহমুদুল হাসান যুক্তি দেখিয়েছেন যে, রাষ্ট্র কেবল কয়েকজন নির্দিষ্ট প্রার্থীর জন্য ব্যক্তিগত গানম্যান বা দেহরক্ষীর ব্যবস্থা করলেও সাধারণ কোটি কোটি ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। তিনি মনে করেন, এমন অনিরাপদ পরিবেশে নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত নাগরিকদের ‘জীবনের মৌলিক অধিকার’-এর চরম লঙ্ঘন হবে। পরিশেষে, লুণ্ঠিত সব আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে একটি নিরাপদ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত না করা পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত রাখার জন্য হাইকোর্টের নিকট নির্দেশনা প্রার্থনা করা হয়েছে।