
খুলনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল প্রাক্টিশনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমপিএ), খুলনা শাখার ২২তম জেলা মেডিকেল সম্মেলন। দিনব্যাপী এই সম্মেলনটি ছিল শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়; বরং খুলনার চিকিৎসক সমাজের জন্য সৌহার্দ্য, সম্মান ও পেশাগত গৌরবের এক আবেগঘন মিলনমেলা।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শুভ সূচনা করেন প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম, মাননীয় উপাচার্য, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। তাঁর বক্তব্যে তিনি প্রাইভেট মেডিকেল প্রাক্টিশনার্সদের নিরলস ত্যাগ ও মানবসেবার ভূমিকার কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, কমিউনিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মেরুদণ্ড হিসেবে প্রাইভেট প্রাক্টিশনার্সদের অবদান জাতি চিরদিন কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চিকিৎসক নেতা ডা. মো. রফিকুল হক বাবলু, প্রাক্তন সভাপতি, বিএমএ খুলনা শাখা। তিনি প্রাইভেট প্রাক্টিশনার্সদের সংগ্রাম, সাফল্য ও ঐক্যের কথা তুলে ধরে নবীন চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তাঁর মতে, অভিজ্ঞ ও নবীন চিকিৎসকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই একটি শক্তিশালী ও টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বিপিএমপিএ খুলনা শাখার সভাপতি ডা. গাজী মিজানুর রহমান। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা ও নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও প্রাইভেট মেডিকেল প্রাক্টিশনার্সরা মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিরলসভাবে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি সংগঠনের ঐক্য, মূল্যবোধ ও মানবিক চিকিৎসা চর্চা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
স্বাস্থ্যসেবায় আজীবন নিষ্ঠা ও ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে এবছর বিপিএমপিএ খুলনার পক্ষ থেকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয় বরেণ্য চিকিৎসক ডা. রফিকুল হক বাবলু, ডা. গৌতম রায় ও ডা. মোরশেদ আহমেদ-কে। সম্মাননা প্রদানকালে মিলনায়তন করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে এবং আবেগাপ্লুত মুহূর্তে সহকর্মীরা তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন বিপিএমপিএ খুলনা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. মোস্তফা কামাল। তাঁর আন্তরিক ও সাবলীল উপস্থাপনায় পুরো আয়োজনটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যান ও শিক্ষা ও বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক ডা. কাজী হাফিজ রহমান এবং সদস্য সচিব ডা. মাহমুদ হাসান লেনিন-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে মোট ১২টি গবেষণাপত্র উপস্থাপিত হয়। এসব উপস্থাপনায় আধুনিক চিকিৎসা, প্রাইমারি কেয়ার ও কমিউনিটি হেলথ নিয়ে গভীর ও বাস্তবভিত্তিক আলোচনা হয়, যা অংশগ্রহণকারী চিকিৎসকদের জ্ঞান ও অনুপ্রেরণাকে সমৃদ্ধ করে।
এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল—
“প্রাইভেট প্রাক্টিশনার্স : ব্যাকবোন অফ কমিউনিটি হেলথ”।
আলোচনায় বক্তারা প্রাইভেট মেডিকেল প্রাক্টিশনার্সদের মানবিক ভূমিকা, সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিকিৎসকদের জন্য একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
খুলনা বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত পাঁচ শতাধিক চিকিৎসকের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এই সম্মেলনটি হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়। বৈজ্ঞানিক আলোচনা শেষে পারিবারিক মিলনমেলা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ২২তম জেলা মেডিকেল সম্মেলনের সফল সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।