
দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বৃহৎ পরিসরে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে প্রায় সাড়ে সাত লাখ প্রবাসী ভোটার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তাদের রায় প্রদান করছেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসীদের এই বিশাল ভোটযজ্ঞের গণনা পদ্ধতি এবং ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া নিয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রবাসীদের প্রেরিত ব্যালটগুলো সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পৌঁছানোর ওপর ভিত্তি করে এই ভোটগুলো মূল ফলাফলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে দেশে ও প্রবাসে মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৩৮ জনই প্রবাসী বাংলাদেশি, যারা ১২৩টি ভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। ইসির বিশেষ সফটওয়্যার ও ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যালট পৌঁছানো নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও ইসি জানিয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটের মধ্যে যে সকল ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার হাতে পৌঁছাবে, কেবল সেগুলোই গণনা প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই সময়ের পরে প্রাপ্ত ব্যালটগুলো সংরক্ষিত থাকলেও তা ফলাফলে প্রভাব ফেলবে না।
ভোট গণনা পদ্ধতির বিষয়ে ইসি স্পষ্ট করেছে যে, পোস্টাল ব্যালটের জন্য কোনো আগাম ফলাফল প্রকাশের সুযোগ নেই। নির্বাচনের দিন সাধারণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর অর্থাৎ বিকেল সাড়ে ৪টার পর থেকেই নিয়মিত ভোটের সাথে পোস্টাল ব্যালট গণনার কাজ শুরু হবে। প্রতিটি সংসদীয় আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা সাধারণ ভোটকেন্দ্রের ফলাফল এবং পোস্টাল ব্যালটের হিসাব একত্রিত করে তবেই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করবেন। ইসি আরও নিশ্চিত করেছে যে, পোস্টাল ব্যালটের ভোট বাদ দিয়ে কোনো আসনেই চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না, যা এই ভোটারদের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখেরও বেশি প্রবাসী ব্যালট এখনো ডাকযোগে ফেরত আসার অপেক্ষায় রয়েছে। ঠিকানা জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে কিছু ব্যালট পৌঁছাতে না পারলেও ইসি আশা করছে, সিংহভাগ ভোটই সময়মতো দেশে পৌঁছাবে। সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে নির্বাচনের দিন রাত অথবা পরদিন সকালের মধ্যেই পোস্টাল ব্যালটসহ পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণা করা সম্ভব হবে। প্রথমবারের মতো চালু হওয়া এই ডিজিটাল ও পোস্টাল সমন্বিত ভোটিং ব্যবস্থা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।