1. bditwork247@gmail.com : Zahid Hassan : Zahid Hassan
  2. khulnarprotichchobi@gmail.com : khulnarprotichchob :
  3. shobuj.khulna@gmail.com : al masum Shobuj : al masum Shobuj
ডুমুরিয়ায় ৭৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, ব্যাহত পাঠদান। - khulnarprotichchobi
২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| শরৎকাল| বুধবার| সকাল ৭:৪৯|
শিরোনামঃ
আজমুল হত্যার বিচারের দাবিতে সোনাডাঙ্গায় শিক্ষার্থীদের অবরোধ,নগর প্রশাসকের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার আপন শহরে সমাধির জন্য দুই গজ মাটিও জুটল না মুঘল শেষ সম্রাট জাফরের সাইবার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলায় বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ৩৪ পদে নিয়োগ আজ থেকে নতুন দামে জ্বালানি তেল, লিটারে বাড়ল ২০ টাকা। দিঘলিয়ায় বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের পর্দা উঠল। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গভীর রাতে যুবকের মৃত্যু, শরীরে আঘাতের চিহ্ন নিয়ে রহস্য। চিত্রার তীরে ধ্বংসস্তূপে ঢাকা নড়াইলের আড়াইশ বছরের হাটবাড়িয়া জমিদার বাড়ি কালের গর্ভে বিলীন হওয়ার পথে কিয়ন্তি স্মৃতি: নড়াইলে নিহার রঞ্জন গুপ্তের পৈতৃক নিবাসের বর্তমান হালচাল খুলনার ‘হোয়াইট হাউস’: বিদ্যুৎ ও নারী শিক্ষার আলোকবর্তিকা ঘোষ জমিদার বাড়ির ইতিহাস

ডুমুরিয়ায় ৭৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, ব্যাহত পাঠদান।

মোঃ আল মাহফুজ শাওন
  • Update Time : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬
Spread the love

মো: আল-মাহফুজ শাওন (খুলনা) প্রতিনিধি:
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। উপজেলার মোট ২১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৮টিতেই নিয়মিত প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে এসব বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৭৮টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬২টিতে সিনিয়র সহকারী শিক্ষকরা অনানুষ্ঠানিকভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। আর ১৬টি বিদ্যালয়ে শিক্ষা অফিসের অনুমোদনে সহকারী শিক্ষকরা চলতি দায়িত্বে থেকে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও শিক্ষাদান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

নিয়মিত প্রধান শিক্ষক না থাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের একদিকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, অন্যদিকে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ সামলাতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের অফিসের খাতা-পত্র সংরক্ষণ, বিভিন্ন প্রতিবেদন তৈরি, সভায় অংশগ্রহণ, দাপ্তরিক চিঠিপত্র, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম দেখভালের কারণে তাদের পাঠদানের সময় কমে যাচ্ছে।

ফলে কোনো কোনো বিদ্যালয়ে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শ্রেণিকক্ষে পাঠদান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিখন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ডুমুরিয়ার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক না থাকায় দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন—লোহাইডাংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্যাম সুন্দর হালদার, চণ্ডীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হেমলতা মন্ডল, শরাফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত), কুড়েঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিন্টু সরদার (চলতি দায়িত্ব) এবং সোনারতরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনকারী সুজিত ভদ্র।

শরাফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক না থাকায় একজন সহকারী শিক্ষককে অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। একইভাবে কুড়েঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও নিয়মিত প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন পিন্টু সরদার।

শরাফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক আরিফা বেগম বলেন, “স্কুলে প্রধান শিক্ষক না থাকায় অন্য শিক্ষকদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। যিনি ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকেন, তাকে অফিসের কাজ, মিটিং ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। এতে সব ক্লাস নিয়মিত ও সময়মতো নেওয়া সম্ভব হয় না। আমরা দ্রুত স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি।”

অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ভিত্তি মজবুত করার সময় যদি নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হয়, তাহলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে।

ডুমুরিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসের একজন শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, উপজেলার ২১৪টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৮টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকা নিঃসন্দেহে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রধান শিক্ষক একটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমের মূল চালিকাশক্তি। নিয়মিত প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত বা চলতি দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষকদের দাপ্তরিক কাজ, সভা ও প্রশাসনিক ফাইল সামলাতে অতিরিক্ত সময় দিতে হচ্ছে। এতে তাদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময়ও কমে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, অভিভাবকদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের রুটিন সমন্বয় করে যাতে কোনো শ্রেণিকক্ষ শিক্ষকশূন্য না থাকে, সে বিষয়ে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যমান সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ভারপ্রাপ্ত ও চলতি দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে, যাতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোপুরি থেমে না যায়।

উপজেলা শিক্ষা অফিসের তথ্যানুযায়ী, ডুমুরিয়ার ২১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক মিলিয়ে ১১৯টিরও বেশি পদ শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট থাকায় অনেক বিদ্যালয়েই বিদ্যমান শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব ও কর্মভার তৈরি হয়েছে।

শিক্ষা অফিস থেকে শূন্যপদের বিস্তারিত তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

শিক্ষা অফিস সূত্র বলছে, প্রধান শিক্ষক পদে স্থায়ী পদায়ন মূলত সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি এবং সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে হয়ে থাকে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর শূন্য পদগুলোতে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক পদায়ন করা সম্ভব হবে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস আশা করছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দ্রুত শূন্য পদ পূরণ করা সম্ভব হলে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে স্বাভাবিক গতি ফিরবে।

শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের মতে, একটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক শুধু প্রশাসনিক দায়িত্বই পালন করেন না; তিনি শিক্ষকদের মধ্যে সমন্বয়, পাঠদানের মান তদারকি, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শৃঙ্খলা, অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

ফলে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক তদারকি দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষকদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে যেসব সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাদের একসঙ্গে প্রশাসনিক ও পাঠদানের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

ডুমুরিয়ার ৭৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক না থাকার বিষয়টি তাই শুধু প্রশাসনিক সংকট নয়, এটি প্রাথমিক শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিখন কার্যক্রমের সঙ্গেও সরাসরি সম্পৃক্ত। দ্রুত শূন্য পদ পূরণ করে বিদ্যালয়গুলোতে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক পদায়নের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025