
সুজিত বাছাড়, দিঘলিয়া প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সারা দেশের মতো খুলনার দিঘলিয়ায়ও যথাযোগ্য মর্যাদায় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১০টায় দিঘলিয়া উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন দাশ গুপ্ত। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার পুষ্পেন্দু দাশ।
অনুষ্ঠানে কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম, সাম্য, মানবতা, দেশপ্রেম ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, নজরুলের সাহিত্য ও দর্শন বাঙালি জাতির আত্মপরিচয়, মুক্তচিন্তা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অন্যতম প্রধান শক্তি। তাঁর সাম্য ও মানবতার বাণী নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দিঘলিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মাহবুবুল আলম, উপজেলা প্রকৌশলী আবু তারেক সাইফুল কামাল, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্নিগ্ধা খাঁ বাবলী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শফিকুল ইসলাম, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মোনায়েম খান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জামাল হুসাইন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সোহাগ হোসেন, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হুমায়রা পারভীন, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পলাশ কুমার বিশ্বাস, একাডেমিক সুপারভাইজার মাকসুদা খানম, উপজেলা দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা রেহানা পারভীন, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সৈয়দ জাহিদুজ্জামান এবং দিঘলিয়া প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার ওয়াহিদ মুরাদ।
এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভার আগে কবি নজরুলের কবিতা আবৃত্তি, সংগীত পরিবেশনসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা বলেন, নজরুলের সৃষ্টিশীলতা, মানবতাবাদ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারণ করে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে হবে। তাঁর সাহিত্য ও দর্শন সমাজে সাম্য, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নজরুল বর্ষ উপলক্ষে দিঘলিয়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বছরব্যাপী বিভিন্ন সাহিত্য, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি পালনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। পাশাপাশি বড় পরিসরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনের কথাও জানানো হয়।