
খুলনা অঞ্চলের জমিজমা সংক্রান্ত শতবর্ষের পুরানো নথিপত্র রক্ষায় এবং সাধারণ মানুষের সুরক্ষিত সেবা নিশ্চিত করতে খুলনা জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের ভবনটি অবিলম্বে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে সেখানে আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণের জোরালো দাবি উঠেছে। আজ সোমবার, ৩ আগস্ট বেলা ১১টায় রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের সম্মুখে ‘বৃহত্তর আমরা খুলনাবাসী’ সদর থানা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে এই দাবি তুলে ধরা হয়। কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান এডভোকেট এস. এম. শফিকুল আলম মনা বলেন, বিগত বছরের ৮ জুলাই ভবনটির ছাদ ধসে পড়ার পর এক বছর অতিবাহিত হলেও ঝুঁকিপূর্ণ এই জরাজীর্ণ অবকাঠামোর কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে খুলনা বিভাগের প্রাচীন ও অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিসংক্রান্ত রেকর্ডপত্র চরম অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
কেডিএ চেয়ারম্যান তাঁর বক্তব্যে ভূমি প্রশাসনিক সেবায় স্বচ্ছতা আনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, খুলনা জেলা রেজিস্ট্রি অফিস এবং বিভিন্ন উপজেলা ভূমি অফিসে প্রশাসনিক জট ও দুর্নীতির যে অভিযোগ রয়েছে, তা দূর করতে অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বরখাস্ত বা অপসারণ করা জরুরি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পষ্ট বার্তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার জনগণের দোরগোড়ায় হয়রানিমুক্ত সেবা পৌঁছে দিতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। সেবাপ্রত্যাশী সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়া তাদের ভূমি সংক্রান্ত কাজ সম্পাদন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই বর্তমান প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।
মানববন্ধনে বক্তারা প্রাচীন এই অবকাঠামোর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান সংকটের চিত্র তুলে ধরেন। ১৮৯৬ সালে খুলনার প্রাণকেন্দ্র কে ডি ঘোষ রোডে দুই বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই রেজিস্ট্রি অফিসটি একসময় সমগ্র বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা অঞ্চলের জমিজমা সংক্রান্ত আইনি কার্যক্রম পরিচালনার প্রধান কেন্দ্র ছিল। সময়ের পরিক্রমায় ওই দুটি জেলায় আলাদা রেজিস্ট্রি অফিস স্থাপন করা হলেও, খুলনা অফিসে রক্ষিত ১২৭ বছরের প্রাচীন ইতিহাসের প্রায় দুই লক্ষাধিক মূল দলিল ও রেকর্ডপত্র রক্ষণা-বেক্ষণের অভাবে এখন বিনাশের মুখে পড়েছে। বক্তারা বলেন, ভবনের নাজুক পরিস্থিতির কারণে যাতায়াতকারী সেবাগ্রহীতা ও কর্মকর্তা উভয়ই প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন।
বৃহত্তর আমরা খুলনাবাসী সদর থানা শাখার সভাপতি মো. মফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক তারিকুজ্জামান চৌধুরী মিতুলের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ মানববন্ধনে খুলনা নগরীর সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকরা সংহতি প্রকাশ করেন। উপস্থিত সর্বস্তরের মানুষ ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা বিধান, জরাজীর্ণ ভবন ভেঙে আধুনিক সুবিধা সম্বলিত বহুতল কমপ্লেক্স নির্মাণ এবং জনবান্ধব প্রশাসনিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন জানান।