
শীতের আমেজ শুরু হতেই খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে পিঠা বিক্রির ব্যবসা এখন জমজমাট। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই উপজেলার বিভিন্ন মোড় ও ফুটপাতে ঐতিহ্যবাহী পিঠার পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা, আর সেই গরম পিঠার স্বাদ নিতে ক্রেতাদের ভিড়ও বাড়ছে।
বিশেষ করে সন্ধ্যায় ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, পাটিসাপটা ও অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী পিঠার দোকানগুলোতে নানা বয়সের মানুষের ভিড় দেখা যায়। নতুন চালের সুগন্ধে চারপাশ ভরে ওঠে এবং ধোঁয়া ওঠা গরম ভাপা পিঠার জন্য ক্রেতারা লাইনে দাঁড়ান।
ডুমুরিয়া বাস্টার্ড মির্জাপুর সড়ক মোড়ে প্রায় চার বছর ধরে চিতই পিঠার ব্যবসা করছেন একজন বিক্রেতা। তিনি জানান, শীতের মৌসুমে পিঠা বিক্রি করেন এবং অন্য মৌসুমে ফলের ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। চাল, গুড়, সরিষা এবং জ্বালানি কাঠের দাম বাড়লেও, এখনও প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার পিঠা বিক্রি হচ্ছে। তিনি আশা করছেন, আগামী এক মাসের মধ্যে শীত বাড়লে বিক্রি দ্বিগুণেরও বেশি হবে।
আয়ের উৎস: বিক্রেতারা জানান, শীতের মৌসুমে মাত্র দুই থেকে তিন মাসেই যে লাভ হয়, তাতে অনেকেরই প্রায় ছয় মাস চলে যায়।
বিক্রির স্থান: উপজেলা শহর, ফুটপাত, রাস্তার মোড় এবং চুকনগর মোড়, আঠারো মাইল বাজার, জাকারিয়া মার্কেটের সামনে, কৈয়া বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পিঠার দোকানগুলো দেখা যায়।
পিঠা শুধু ব্যবসা নয়, এটি বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই সময়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোও পিঠা উৎসবের আয়োজন করে থাকে, যেমন সরকারি মহিলা কলেজ।
বিষয়টি নিয়ে বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, শীতের ২-৩ মাসে পিঠা বিক্রি করে গরিব মানুষের জন্য একটি ভালো আয় হয়। তিনি মন্তব্য করেন, এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়া খুবই জরুরি।
খুলনার প্রতিচ্ছবি: আপনার কন্ঠস্বর