
ভ্রমণ মানুষের মনকে আনন্দ দেয় এবং জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার পরিধি বাড়ায়। বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থাপনা, যা আমাদের গৌরবময় অতীতের নীরব সাক্ষী। তেমনই এক অনন্য স্থাপত্য নিদর্শন হলো বাগেরহাট জেলার ঐতিহাসিক ষাট গম্বুজ মসজিদ। শীতের ছুটিতে এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি ঘুরে দেখার সুযোগ হয়, যা আমার জীবনের এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।
যাত্রার শুরু
শীতের ছুটিতে আমি ও আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু মিলে ষাট গম্বুজ মসজিদ ভ্রমণের পরিকল্পনা করি। বন্ধুটি আগেও কয়েকবার এখানে এসেছিল, তাই তার অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা করেই তাকে সফরসঙ্গী হিসেবে বেছে নিই। খুলনা শহর থেকে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। প্রথমে রূপসা ঘাট পার হয়ে রূপসা বাস স্ট্যান্ড থেকে বাসে উঠে সরাসরি ষাট গম্বুজ মসজিদের উদ্দেশ্যে রওনা দিই। আরামদায়ক বাসযাত্রা ও পথের প্রাকৃতিক দৃশ্য আমাদের ভ্রমণের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দেয়।
প্রবেশ ও টিকিট ব্যবস্থা
ষাট গম্বুজ এলাকায় পৌঁছে টিকিট কাউন্টারে যাই। সেখানে নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা চোখে পড়ে। প্রবেশমূল্য সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত—
সাধারণ দর্শনার্থী: ২০–৩০ টাকা
শিক্ষার্থী: ১০ টাকা
SAARC ভুক্ত বিদেশি: ২০০ টাকা
অন্যান্য বিদেশি: ৫০০ টাকা
পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু: ফ্রি
আমরা দুজনই শিক্ষার্থী হওয়ায় ১০ টাকা করে মোট ২০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে ভেতরে প্রবেশ করি।
স্থাপত্য ও পরিবেশে মুগ্ধতা
ভেতরে ঢুকেই আমি বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে যাই। লাল ইটের বিশাল মসজিদ, অসংখ্য স্তম্ভ ও সারি সারি গম্বুজ প্রাচীন বাংলার স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। চারপাশে এক ধরনের শান্ত, পবিত্র ও ঐতিহাসিক পরিবেশ বিরাজ করছিল। সেখানে দেশি-বিদেশি বহু পর্যটকের উপস্থিতি চোখে পড়ে। কয়েকজন বিদেশি পর্যটককে নিজ নিজ ভাষায় গাইডের মাধ্যমে ষাট গম্বুজ মসজিদের ইতিহাস জানতে দেখে ভালো লাগে। এতে বোঝা যায়, এই স্থাপনাটি শুধু দেশের নয়, বিশ্ব ঐতিহ্যেরও অংশ।
ঘোরাঘুরি ও স্মৃতি ধারণ
আমরা মসজিদের ভেতর ও আশপাশে ঘোরাঘুরি করি, ছবি তুলি এবং কিছু বিদেশি পর্যটকের সঙ্গে কথাও বলি। নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা থাকায় মসজিদটির ধর্মীয় গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়। সেখানে পেশাদার DSLR ক্যামেরাম্যানের ব্যবস্থাও ছিল। তাদের মাধ্যমে তোলা কয়েকটি ছবি আমাদের এই ভ্রমণের স্মৃতি হয়ে থাকবে।
ভ্রমণের শেষাংশ
প্রায় দুই ঘণ্টা ঘোরাঘুরির পর আমরা সেখান থেকে বের হই। এরপর বন্ধুর বাসায় যাই, যা খান জাহান আলী (রহ.)-এর দরগা এলাকায় অবস্থিত। সেখানেও কিছু সময় কাটিয়ে বাসে করে আমরা আবার নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিই।
সব মিলিয়ে ষাট গম্বুজ মসজিদ ভ্রমণ আমার জীবনের প্রথম হলেও এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। এই সফরের মাধ্যমে আমি আমাদের দেশের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছি। এই স্মৃতি দীর্ঘদিন হৃদয়ে গেঁথে থাকবে। সুযোগ পেলে আবারও এমন ঐতিহাসিক স্থান ঘুরে দেখার ইচ্ছা রইল।