
সুজিত বাছাড়, দিঘলিয়া প্রতিনিধি | খুলনা
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পালপাড়াগুলোর মৃৎশিল্প এখন অনেকটাই উৎসবনির্ভর হয়ে পড়েছে। বৈশাখসহ বিভিন্ন উৎসবকে ঘিরে সাময়িক কর্মচাঞ্চল্য দেখা গেলেও বছরের বাকি সময় অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন এখানকার কুমার ও মৃৎশিল্পীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বৈশাখ উপলক্ষে কিছুদিন আগেও মাটির হাঁড়ি-পাতিল, ফুলের টব, শোপিস, পুতুল ও বিভিন্ন অলংকার তৈরিতে ব্যস্ত ছিলেন কারিগররা। তবে উৎসব শেষ হতেই সেই ব্যস্ততা মিলিয়ে গেছে। অধিকাংশ কর্মশালায় কাজ নেই বললেই চলে, অনেকেই অলস সময় পার করছেন।
মৃৎশিল্পীরা জানান, উৎসবের সময় পণ্যের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। খুলনা ছাড়াও নড়াইল, যশোর ও বাগেরহাটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মেলা ও হাটে এসব পণ্য সরবরাহ করা হয়। কিন্তু সারা বছর সেই চাহিদা থাকে না, ফলে আয়ও স্থিতিশীল থাকে না।
পালপাড়ার প্রবীণ কুমাররা বলেন, বংশপরম্পরায় পাওয়া এই পেশাই তাদের জীবনের অবলম্বন। তবে আয় কমে যাওয়ায় নতুন প্রজন্ম এই পেশায় আগ্রহ হারাচ্ছে। অনেকেই বিকল্প পেশায় চলে যাচ্ছে, যা এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পের ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, দক্ষ শ্রমিকের অভাব এবং পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতার ঘাটতি এই শিল্পকে বড় সংকটে ফেলেছে। নিয়মিত বাজার না থাকায় উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং কারিগররা পেশা বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন।
দিঘলিয়ার মৃৎশিল্প শুধু একটি পেশা নয়, এটি এলাকার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে যথাযথ উদ্যোগ ও সহায়তা না পেলে এই শিল্প একসময় হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।