
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছে নির্বাচন কমিশন। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে এই শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। রোববার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠির মাধ্যমে এই কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়, যা পরবর্তীতে ঢাকার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আজমুল হক নিশ্চিত করেছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঠানো ওই নোটিশে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে যে, সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে রাজধানী ও এর আশপাশের বিভিন্ন স্থানে টাঙানো দলটির সকল বিলবোর্ড দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপসারণ করতে হবে। একইসঙ্গে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সেই বিষয়েও কৈফিয়ত চাওয়া হয়েছে। এই জবাব প্রদানের জন্য সোমবার বেলা ১১টার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে প্রার্থীকে সশরীরে অথবা উপযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে হবে।
তবে প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এই শোকজ নোটিশটি বিধিবহির্ভূতভাবে প্রদান করা হয়েছে। এনসিপির নির্বাচনী মিডিয়া উপকমিটির প্রধান মাহাবুব আলম প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। দলটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা হয়। তাঁদের দাবি অনুযায়ী, নগরজুড়ে যেসব ব্যানার বা প্রচারসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে মূলত ‘দেশ সংস্কারের গণভোট—হ্যাঁ-এর পক্ষে থাকুন’ শীর্ষক একটি জনসচেতনতামূলক বার্তা ছিল।
এনসিপি নেতৃবৃন্দের দাবি, এই প্রচারণায় নাহিদ ইসলাম বা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর জন্য নির্ধারিত ‘শাপলাকলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার কোনো সরাসরি আহ্বান ছিল না। দলটির অবস্থান হলো, গণভোটের প্রচারের জন্য নির্ধারিত যে বিধিমালা রয়েছে, তার কোনোটিই এখানে লঙ্ঘিত হয়নি। ফলে সাধারণ নির্বাচনী আচরণবিধির ব্যত্যয় ঘটার কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করছে দলটি। নির্বাচন কমিশনের এই কঠোর অবস্থান এবং এনসিপির পাল্টা যুক্তির প্রেক্ষাপটে আগামীকালের শুনানির দিকে এখন সবার নজর রয়েছে।