
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোটের প্রথম সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত ও সন্তোষজনক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দেশজুড়ে গড় ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৮৮ শতাংশ। দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান, সারাদেশের মোট ৪২ হাজারের বেশি কেন্দ্রের মধ্যে ৩২ হাজার ৭৮৯টি কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই গড় হার নির্ণয় করা হয়েছে। প্রতিকূলতা এড়িয়ে ভোটারদের এই ব্যাপক অংশগ্রহণকে নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় এক ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছে কমিশন।
নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সচিব আখতার আহমেদ তাঁর বক্তব্যে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, দেশের কোথাও এখন পর্যন্ত ভোটগ্রহণ স্থগিত বা বন্ধ করার মতো কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ভোটাররা দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করছেন। সচিবের মতে, প্রথম সাড় ৪ ঘণ্টার এই হার প্রমাণ করে যে ভোটারদের মাঝে ভোট দেওয়ার ব্যাপক আগ্রহ কাজ করছে। বিশেষ করে নতুন ও নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।
শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে ইসি সচিব জানান, এখন পর্যন্ত দেশের কোথাও বড় ধরনের কোনো গোলযোগ বা বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিটি কেন্দ্রে কড়া নজরদারি রাখছে এবং কমিশন সরাসরি মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতির ওপর নজরদারি বজায় রেখেছে। কোনো কোনো স্থানে ছোটখাটো হট্টগোলের খবর পাওয়া গেলেও তা ভোটগ্রহণের স্বাভাবিক গতিতে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। নির্ধারিত সময় বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য যে, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনে ভোট গ্রহণের পাশাপাশি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ইস্যুতে গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইসি সচিব আশ্বাস দিয়েছেন যে, নিয়মিত বিরতিতে গণমাধ্যমকে ভোটের সর্বশেষ আপডেট ও ফলাফল সম্পর্কে অবহিত করা হবে। বিকেল সাড়ে ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হবে ভোট গণনার কাজ। ভোটারদের এই উৎসবমুখর অংশগ্রহণ শেষ পর্যন্ত বজায় থাকলে ভোটের চূড়ান্ত হার আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে কমিশন সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলেও সচিব তাঁর বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেন।