
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোটে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে তিনি দেবীদ্বার উপজেলার গোপালনগর হাইস্কুল কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোট প্রদান করেন। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে যে উদ্দীপনা কাজ করছে, হাসনাত আবদুল্লাহর ভোট প্রদানের সময় সেই চিত্রের প্রতিফলন ঘটে। ভোটদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঊর্ধ্বে উঠে সামাজিক ও ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
দেবীদ্বারবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বার্তায় হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন যে, ভোট দেওয়া প্রতিটি নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং যে কেউ তাঁর পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন। তবে এই ভোটকে কেন্দ্র করে যেন পাড়া-মহল্লা বা ব্যক্তিগত পর্যায়ে কোনো ধরনের সম্পর্কের অবনতি না ঘটে, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। তিনি মনে করেন, নির্বাচনের ফলাফল যা-ই হোক না কেন, দেবীদ্বারের চিরাচরিত সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য যেন অটুট থাকে। ভোটের কারণে কারো সঙ্গে নেতিবাচক সম্পর্ক তৈরি হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয় উল্লেখ করে তিনি এই দিনটিকে ভয়ের বদলে একটি আনন্দময় উৎসবে রূপান্তর করার আহ্বান জানান।
তরুণ ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতিকে এই নির্বাচনের অন্যতম বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি জানান যে, তাঁর নির্বাচনী এলাকায় প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ভোটার এবারই জীবনের প্রথম ভোট দিচ্ছেন, যা ভোটারদের মধ্যে এক অভূতপূর্ব উৎসাহ সৃষ্টি করেছে। সকাল থেকেই ভোটারদের সরব উপস্থিতি দেখে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই উৎসাহ আরও বৃদ্ধি পাবে। কোনো ধরনের প্রক্রিয়াগত বা কারিগরি জটিলতা এখন পর্যন্ত তাঁর কানে আসেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনী এজেন্টদের দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে না, যা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রাথমিক লক্ষণ।
সহিংসতামুক্ত নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে এই তরুণ নেতা আরও বলেন যে, মানুষ যেন কোনো ধরনের শঙ্কা ছাড়াই কেন্দ্রে আসতে পারে, তা নিশ্চিত করাই তাঁদের কাম্য। ভোট কোনো ভয়ের বিষয় নয়, বরং এটি নাগরিকের মালিকানা প্রতিষ্ঠার দিন। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক এই অগ্রযাত্রায় যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছায়া ফেলতে না পারে। দিনশেষে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত রায়ের মাধ্যমেই নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন সফল হবে এবং দেবীদ্বারের মানুষ যোগ্য প্রতিনিধি বেছে নেবে বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করেন।