
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় তীব্র জ্বালানি তেল সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার কোথাও মিলছে না ডিজেল বা পেট্রোল, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে কৃষক, মোটরসাইকেল চালক, নসিমন-ভুটভুটি ও ট্রলি চালকদের দুর্ভোগ এখন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।
উপজেলার বহু কৃষক ডিজেলচালিত সেচযন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ডিজেলের অভাবে তারা সময়মতো ফসলি জমিতে পানি দিতে পারছেন না। এতে ইরি মৌসুমে ফসল হানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষকদের অনেকেই দোকানে দোকানে ঘুরেও ডিজেল পাচ্ছেন না, যা তাদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে, দিঘলিয়ায় কয়েক হাজার মোটরসাইকেল এবং শতাধিক নসিমন, ভুটভুটি ও ট্রলি চলাচল করে। জ্বালানি তেলের অভাবে এসব যানবাহন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ফলে শ্রমজীবী মানুষ তাদের আয়-রোজগার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি তেলের ডিপো থেকে বর্তমানে শুধুমাত্র পেট্রোল পাম্পগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু দিঘলিয়া উপজেলায় কোনো পেট্রোল পাম্প না থাকায় সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। আগে খুচরা ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন উৎস থেকে তেল সংগ্রহ করে বিক্রি করলেও এখন সেই সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে যানবাহন চালক ও কৃষকরা পড়েছেন চরম সংকটে।
উল্লেখ্য, খুলনা শহরের নিকটবর্তী হওয়ায় দিঘলিয়ায় ছোট-বড় শিল্প-কারখানা ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন এই অঞ্চলে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলের ব্যাপক চলাচল রয়েছে। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে এসব যানবাহনও কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে, সরকারিভাবে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে জানানো হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। খুলনা শহরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দেখা যাচ্ছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না চালকরা। পাম্প মালিকদের দাবি, তারা ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম তেল পাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সংকটের পেছনে কোনো অসাধু সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকতে পারে। যদিও সরকার ইতোমধ্যে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তবে দিঘলিয়ায় এর কার্যকর প্রতিফলন এখনো দেখা যাচ্ছে না।
ভুক্তভোগীরা জানান, “পেট্রোল পাম্প না থাকায় আমরা এতদিন খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে তেল কিনে কাজ চালাতাম। এখন সেই পথও বন্ধ হয়ে গেছে। এতে আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছি।”
এ অবস্থায় দিঘলিয়ার সাধারণ মানুষ দ্রুত এই সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় জনগণ গণমাধ্যমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জনগণের প্রত্যাশা, দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে দিঘলিয়ার জ্বালানি সংকট নিরসন করা হবে এবং তাদের চলমান দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।