
পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে মেধাকে একমাত্র যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন খুলনা রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি)। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ঘুষ, তদবির বা দালালচক্রের প্রভাব বরদাশত করা হবে না।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় ডিআইজি কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি পুলিশে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে শতভাগ স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক রাখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের কথা তুলে ধরেন।
ডিআইজি বলেন, “পুলিশে চাকরি পেতে টাকা লাগে—এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। কেউ জমিজমা বিক্রি করে বা ধার করে দালালের কাছে টাকা দেবেন না।” তিনি আরও জানান, নিয়োগ ঘিরে দালালদের তৎপরতা রোধে পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, কেউ অর্থের বিনিময়ে চাকরি নেয়ার চেষ্টা করলে এবং তা তিন বছরের মধ্যে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির চাকরি বাতিলসহ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে প্রতারণার অভিযোগে কয়েকজন দালালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও এতিম প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন ডিআইজি। তিনি বলেন, “যোগ্যতা থাকলে অসহায় ও এতিম প্রার্থীরাই এগিয়ে থাকবে। তাদের জন্য কোনো তদবিরের প্রয়োজন নেই।”
এবারের নিয়োগে ব্যাপক প্রতিযোগিতার চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, খুলনা রেঞ্জে প্রতিটি পদের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৪ হাজার ৬৬৫ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন। কোটায় উপযুক্ত প্রার্থী না পাওয়া গেলে সাধারণ মেধা তালিকা থেকে শূন্যপদ পূরণ করা হবে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে ডিআইজি বলেন, “সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে—পুলিশে চাকরিতে কোনো টাকা লাগে না। কোথাও অনিয়মের তথ্য পেলে দ্রুত জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।