
সাইবার অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণ বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার করা হয়েছে।
সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এ সময় দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আগামী অক্টোবরের শুরুতে দায়িত্ব শেষে বাংলাদেশ ত্যাগের বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে তিনি চীনের জননিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রীর শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন এবং চীনে অনুষ্ঠেয় জননিরাপত্তা বিষয়ক ফোরামে অংশগ্রহণ ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠকে সাইবার অপরাধ দমন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। রাষ্ট্রদূত জানান, গত দুই বছরে চীন বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শতাধিক সদস্যকে সাইবার অপরাধ, জননিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা, অভিবাসন এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসংক্রান্ত বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ সহযোগিতার জন্য চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকার পুলিশ বাহিনীর জন্য একটি বিশেষায়িত সাইবার নিরাপত্তা ইউনিট গঠন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত ডিজিটাল ফরেনসিক ও সাইবার ল্যাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য চীনা বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি দল বাংলাদেশে পাঠানোর পরামর্শ দেন ইয়াও ওয়েন। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সিআইডির নেতৃত্বে একজন অতিরিক্ত আইজিপি, একজন অতিরিক্ত ডিআইজি এবং সাইবার ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল চীনে পাঠানো হবে।
প্রতিনিধি দলটি চীনের সাইবার ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব পরিদর্শন করে প্রযুক্তি ও অবকাঠামো সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। পরে দেশে প্রয়োজনীয় ফরেনসিক ল্যাব ও সরঞ্জাম স্থাপনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তৈরি করবে।
বৈঠকে চীনা নাগরিক, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও উঠে আসে। রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশে কর্মরত চীনা নাগরিক ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নিয়োজিতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন ও কৌশলগত অংশীদার। বাংলাদেশে বসবাসরত চীনা নাগরিক, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কর্মরতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
বৈঠকে পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, অতিরিক্ত আইজিপি ও সিআইডি প্রধান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তথ্য ও ছবি: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়