
খুলনা মহানগর পুলিশ (কেএমপি) চাঞ্চল্যকর ত্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন করে মূল পরিকল্পনাকারীসহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। জমিজমা সংক্রান্ত পুরনো বিরোধের জেরে মামাতো ফুফাতো ভাইয়ের পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার তারিখ: গত ১৬ নভেম্বর ২০২৫।
স্থান: লবণচরা থানা এলাকা।
নিহতরা: একই পরিবারের তিনজন। নিহতদের মধ্যে রয়েছে দুই শিশু— ফাতিহা (৭) ও মুস্তাকিম (৮), এবং তাদের নানি মহিতুন্নেছা (৫৩)।
মামলা: ঘটনার প্রেক্ষিতে ১৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে লবণচরা থানায় হত্যা মামলা রুজু হয়।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে মূল হোতা
হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা এবং পরিকল্পনাকারী হলেন মো. শামীম শেখ@শেখ শামীম আহম্মেদ।
- আসামীর পরিচয়: তিনি মামলার বাদী সেফার আহম্মেদের মামাতো ফুফাতো ভাই।
- উদ্দেশ্য: দীর্ঘদিন ধরে সেফার আহম্মেদের সাথে শামীমের জমি-জমা নিয়ে বিরোধ ও মামলা চলছিল। এর জেরেই শামীম শেখ প্রতিপক্ষের পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা করেন।
- পরিকল্পনা: শামীম শেখ অস্ত্র মামলায় জেলে থাকাকালীন একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন। জেল থেকে বের হয়ে তিনি বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সেই সন্ত্রাসীদের ভাড়া করেন এবং তাদের নিয়ে ১৬ নভেম্বর সেফার আহম্মেদের বাড়িতে প্রবেশ করে হত্যাকাণ্ডটি ঘটান।
গ্রেফতার ও জবানবন্দি
- মূল হোতার গ্রেফতার: ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকা মো. শামীম শেখ@শেখ শামীম আহম্মেদ বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
- স্বীকারোক্তি: এই নৃশংস হত্যাযজ্ঞের মূল হোতা মো. শামীম শেখ@শেখ শামীম আহম্মেদ বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছেন।
- সহযোগীদের গ্রেফতার: হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে ইতোপূর্বে গ্রেফতার করা হয় তরিকুল ইসলাম তারেক (২৬) এবং তাফসির হাওলাদার (২০) নামের আরও দুজনকে। এদের বিরুদ্ধেও পূর্বের মাদক, চুরি ও ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে।
- শামীমের পূর্বের মামলা: তার নামে ইতোপূর্বে অস্ত্র আইনের একটি মামলা রয়েছে।
এ বিষয়ে খুলনা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এ্যাডমিন এন্ড ফিন্যান্স) জনাব আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় কেএমপি’র অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কেএমপি জানিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত আছে।