
সম্প্রতি খুলনা বিভাগজুড়ে—বিশেষ করে খুলনা জেলা, যশোর, নড়াইল, বাগেরহাট, ঝিনাইদহ ও সাতক্ষীরায়—চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি এবং বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র বাসা ভাড়া নেওয়াকে নতুন কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে। ভাড়া বাড়িতে ওঠার পর তারা আশপাশের এলাকার বাড়ি-বাজার পর্যবেক্ষণ করে সুযোগ বুঝে চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটাচ্ছে।
নতুন কৌশলে সক্রিয় অপরাধ চক্র
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অনেক অপরাধী চক্র নিজেদের ভদ্র ব্যক্তির পরিচয়ে শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় স্বল্প সময়ের জন্য বাড়ি ভাড়া নেয়। এরপর কয়েকদিন ধরে টার্গেট নির্ধারণ করে হঠাৎ করেই চুরি, ছিনতাই বা ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এতে করে মালিক কিংবা প্রতিবেশীরা কোনো সন্দেহের সুযোগই পান না।
চোরাচালান ও চোরাই স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য
পুলিশের তথ্য মতে, চুরি-ডাকাতির পাশাপাশি কিছু চোরাচালানকারী এবং চোরাই স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় খুলনা ও যশোর অঞ্চলে স্বর্ণ, মোবাইল ফোন, এমনকি মাদক চোরাচালানের ঘটনাও বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে এই চোরাচালানকারীদের সঙ্গে স্থানীয় ছোট সংঘবদ্ধ চক্রের যোগসূত্র পাওয়া যাচ্ছে।
বাড়ছে দুর্ঘটনাও
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যাও বেড়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ। অপরিকল্পিত যান চলাচল, রাতের অন্ধকারে মোটরসাইকেলের বেপরোয়া গতি এবং ট্রাক-ভ্যান সংঘর্ষের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) ও জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, ভাড়া বাড়ি সম্পর্কে ভাড়াটিয়া তথ্য সংগ্রহ এবং যাচাই-বাছাই জোরদার করতে বাড়ির মালিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি ও টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।
জনমনে উদ্বেগ
এভাবে অপরাধ ও দুর্ঘটনা একসঙ্গে বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের দাবি, ভাড়াটিয়া নিবন্ধন ব্যবস্থা কঠোর করা, রাত্রীকালীন টহল বৃদ্ধি এবং সন্দেহজনক ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই করলে অনেক অপরাধই আগেভাগে প্রতিরোধ সম্ভব।