
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের আবাসিক এলাকায় আটটি সদ্যজাত কুকুরছানা হত্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দার ঝড় উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, মা কুকুরটি তার ছানাদের নিয়ে উপজেলা পরিষদ কোয়ার্টারের পাশে আশ্রয় নিয়েছিল। এলাকাবাসী খাবার দিত, যত্ন নিত—এখানেই নিরাপদ ভেবেছিল মা কুকুরটি।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা হাসানুর রহমান নয়নের স্ত্রী নিশি রহমান বিরক্ত হয়ে বস্তায় ভরে ছানাগুলোকে পুকুরে ফেলে দেন। ফলে মুহূর্তেই মারা যায় আটটি কুকুরছানা। ঘটনাটি সামনে আসতেই জনমনে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
সদ্য বদলি হওয়া ইউএনও সুবীর কুমার দাস পূর্বে এই কুকুরদের দেখাশোনা করতেন। তিনি ঘটনাটি জানার পর প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে অভিযুক্ত পরিবারকে সরকারি কোয়ার্টার থেকে ছাড়পত্র ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
হাসানুর রহমান নয়ন দাবি করেছেন, তিনি ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং স্ত্রীকে বকেছেন। তবে এই বক্তব্যে আরও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। নেটিজেনরা মনে করেন, “আটটি প্রাণ হত্যা কোনো সাধারণ ভুল নয়—এটি দৃষ্টান্তমূলক অপরাধ।”
প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, আইনের আওতায় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। প্রাণী–নির্যাতন প্রতিরোধ আইনের কঠোর প্রয়োগের দাবিও জোরালো হচ্ছে।
এ ঘটনার পর থেকে মা কুকুরটি ‘টমি’ শোকে খাদ্য গ্রহণ বন্ধ করে দিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। সন্তান হারিয়ে উদভ্রান্ত টমিকে দেখছে সবাই। মা–প্রাণীর এই কষ্টের দৃশ্য আরো ক্ষোভ বাড়িয়েছে মানুষের মধ্যে।
মানবাধিকার কর্মী, প্রাণীপ্রেমী সংগঠনসহ সাধারণ নাগরিকরা বলছেন,
“শুধু কোয়ার্টার ছাড়াই যথেষ্ট নয়; অপরাধ অনুযায়ী মামলা ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। প্রাণীরও বেঁচে থাকার অধিকার আছে—মানুষের নিষ্ঠুরতা বন্ধ হওয়া জরুরি।”