
ডায়াবেটিস এখন আর শুধু বয়স্কদের রোগ নয়। জীবনযাত্রার পরিবর্তন, অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে তরুণ ও কর্মজীবী মানুষের মধ্যেও দ্রুত বাড়ছে এই দীর্ঘমেয়াদি রোগ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিসের বড় বিপদ হলো এর প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় স্পষ্ট হয় না। ফলে অনেকেই জানতেই পারেন না যে তাঁরা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। ঘন ঘন পিপাসা লাগা, বারবার প্রস্রাবের চাপ, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, ঝাপসা দেখা ও ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া এসব লক্ষণ উপেক্ষা করলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে।
একটি সাধারণ ধারণা হলো যে চিনি বা মিষ্টি খাবার এড়িয়ে চললে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে। যদিও এটি সম্পূর্ণ সত্য নয়, তবে চিনি কম খেলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কিছুটা কমে যেতে পারে। চিনি বেশি খেলে শরীরে ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে, আর ওজন বৃদ্ধি ডায়াবেটিসের একটি প্রধান ঝুঁকির কারণ। তবে, ডায়াবেটিস সৃষ্টির পেছনে চিনি একমাত্র কারণ নয়। জিনগত কারণ, অপর্যাপ্ত শারীরিক সক্রিয়তা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং চাপ এর পেছনে অন্যান্য প্রধান কারণ।
ডায়াবেটিসের প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় মৃদু হয়ে থাকে, যার ফলে অনেকেই তা উপেক্ষা করেন। তবে, নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে সতর্ক হওয়া উচিত:
* প্রায়শই প্রস্রাব হওয়া: রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি হলে শরীর অতিরিক্ত শর্করা বের করতে বেশি প্রস্রাব তৈরি করে।
* খুব বেশি তৃষ্ণা অনুভব করা: প্রায়শই প্রস্রাব হওয়ার কারণে শরীরে পানির অভাব হয়, যার ফলে তীব্র তৃষ্ণা অনুভব করা হয়।
* খাওয়ার পরেও খুব বেশি ক্ষুধা অনুভব করা: শরীর যখন রক্তের শর্করা থেকে শক্তি পেতে ব্যর্থ হয়, তখন ক্ষুধা অনুভব করা হয়।
* অত্যধিক ক্লান্তি: শরীর যখন রক্তের শর্করা থেকে শক্তি পেতে ব্যর্থ হয়, তখন অত্যধিক ক্লান্তি অনুভব করা হয়।
* ঝাপসা দৃষ্টি: রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি হলে চোখের লেন্স ফুলে যেতে পারে, যার ফলে ঝাপসা দৃষ্টি হতে পারে।
* ক্ষত/আঘাত ধীরে শুকানো: ডায়াবেটিসের কারণে রক্ত প্রবাহ কমে যায়, যার ফলে ক্ষত ধীরে শুকায়।
ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা। নিচের উপায়গুলো অনুসরণ করা উচিত:
* ওজন কমানো: অতিরিক্ত ওজন ডায়াবেটিসের একটি প্রধান ঝুঁকির কারণ। শরীরের ওজনের ৫-৭% কমালে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে যেতে পারে।
* শারীরিক সক্রিয়তা বাড়ানো: সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার এরোবিক কার্যকলাপ, যেমন হাঁটা, সাঁতার বা সাইকেল চালানো, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
* স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া: ফল, সবজি, ডাল এবং শস্য খাওয়া উচিত। চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট কম খাওয়া উচিত।
* রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা: নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা রাখা জরুরি, বিশেষ করে যাদের পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস আছে বা যাদের ওজন দ্রুত বাড়ছে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, পরিবারের কারও ডায়াবেটিস থাকলে বা ওজন দ্রুত বাড়তে থাকলে দেরি না করে পরীক্ষা করানো উচিত। সময়মতো সচেতন হলে এই নীরব রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, তবে সঠিক জীবনযাপন এবং নিয়মিত পরীক্ষা করে এর জটিলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব।