
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান। বর্তমানে তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এই মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি ঘোষণা দিয়েছেন যে, আগামী শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ থেকে পদত্যাগ করবেন। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর সাংবাদিকদের কাছে তিনি নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করেন, যা শৈলকুপার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মো. আসাদুজ্জামানের পক্ষে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ঝিনাইদহ-১ আসনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়। শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবাশীষ অধিকারীর কাছ থেকে এই মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেনের নেতৃত্বে উপজেলা ও পৌর শাখার নেতাকর্মীরা। উল্লেখ্য, মো. আসাদুজ্জামান কেবল একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীই নন, তিনি বিএনপির মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি একই আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ থেকে পদত্যাগ করে সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণের এই সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মাত্র তিন দিন পর, ৮ আগস্ট তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের পর এবার তিনি সরাসরি নির্বাচনী লড়াইয়ে নামছেন। তার এই পদক্ষেপ একদিকে যেমন তার রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন, তেমনি অন্যদিকে ঝিনাইদহ-১ আসনে বিএনপির শক্ত অবস্থান তৈরির ইঙ্গিত বহন করে।
ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) সংসদীয় আসনটি একটি পৌরসভা এবং ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ লাখ ২৫ হাজার ২৭০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৬২ হাজার ৯৯৫ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৬২ হাজার ২৭৫ জন। আসনটির নির্বাচনী ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এখানে ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে। ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল, যখন অধ্যক্ষ মো. কামরুজ্জামান নির্বাচিত হন। তবে ১৯৯১, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এবং একই বছরের ২ জুনের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল ওহাব সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসনটিতে দলের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। তবে ২০০১ সালের পর থেকে আসনটি দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে। মো. আসাদুজ্জামানের এই মনোনয়ন তাই আসনটি পুনরুদ্ধারের জন্য বিএনপির একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।