
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তিত্ব এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। শনিবার দুপুর ১টার দিকে তিনি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন ভবনে উপস্থিত হয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। তার এই আগমনের মধ্য দিয়ে দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তার সক্রিয় অংশগ্রহণের পথ আরও সুগম হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান কমিশন ভবনে প্রবেশের পর অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে তার বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদানের কাজ সম্পন্ন করেন। এ সময় তার আঙুলের ছাপ এবং চোখের মণির (আইরিশ) প্রতিচ্ছবিসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, নিবন্ধনের যাবতীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরও জানান, তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তারেক রহমানের জাতীয় পরিচয়পত্রটি প্রস্তুত হয়ে যাবে।
একই দিনে তারেক রহমানের সুযোগ্য কন্যা জাইমা রহমানও তার জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য আবেদন জমা দিয়েছেন। পিতা ও কন্যার এই যৌথ উদ্যোগ বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার আগে তারেক রহমান এক আবেগঘন পরিবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহিদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেন। সেখানে তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন এবং পরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন ও কবর জিয়ারতের সময় তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খানসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। নির্বাচন কমিশন থেকে বের হওয়ার পর তারেক রহমান ধানমন্ডিতে তার শ্বশুরের বাসভবন ‘মাহবুব ভবন’-এ যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখান থেকে তিনি সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন, যেখানে তার মাতা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দীর্ঘ সময় পর মা ও ছেলের এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
তারেক রহমানের এই এনআইডি নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়াকে বিএনপির পক্ষ থেকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলের নীতিনির্ধারকদের মতে, এটি কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় তারেক রহমানের বলিষ্ঠ প্রত্যাবর্তনের একটি শক্তিশালী বার্তা। খুলনার প্রতিচ্ছবি নিউজ পোর্টালের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, এই ঘটনার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে, যা আগামী দিনের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।