
আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। দীর্ঘ চার দিনের নিবিড় যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষে খুলনা জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা নিয়ে প্রাথমিক চিত্র পরিষ্কার হয়েছে। জেলা আঞ্চলিক রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বাছাই প্রক্রিয়ায় ৪৬ জন প্রার্থীর দাখিল করা আবেদনপত্রের মধ্যে ১১ জনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে ভোটের মাঠে বৈধ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে টিকে রয়েছেন ৩৫ জন প্রার্থী। গত বুধবার থেকে শুরু হয়ে রবিবার পর্যন্ত চলা এই যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে মূলত বিভিন্ন কারিগরি ত্রুটি ও নির্বাচনী শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র ও দলীয় প্রার্থীর পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে।
নির্বাচনী এলাকা ভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, খুলনা-১ আসনে সবচেয়ে বেশি ১৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। সেখানে তিনজনের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় এখন ভোটের লড়াইয়ে আছেন ১০ জন। এই আসনে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন এবং বামপন্থি দলগুলোর শক্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অন্যদিকে, খুলনা-২ আসনের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই আসনে জমা পড়া চারটি মনোনয়নপত্রের সবকটিই বৈধ বলে গৃহীত হয়েছে, যেখানে বড় দলগুলোর হেভিওয়েট নেতারা সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। খুলনা-৩ আসনেও প্রার্থীদের ব্যাপক ভিড় ছিল। ১২ জন আবেদনকারীর মধ্যে ৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে, যার ফলে বর্তমানে ৯ জন প্রার্থী সেখানে ভোটের লড়াইয়ে সক্রিয় রয়েছেন।
বাকি তিনটি আসনের মধ্যে খুলনা-৪ আসনে ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ১ জনের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় ৪ জন প্রার্থী চূড়ান্ত লড়াইয়ের অপেক্ষায় আছেন। একইভাবে খুলনা-৫ আসনে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ২ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। এই আসনে জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়া একটি বড় চমক হিসেবে দেখা দিচ্ছে। পরিশেষে, খুলনা-৬ আসনেও একই চিত্র ফুটে উঠেছে। সেখানে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ২ জন বাদ পড়েছেন এবং বর্তমানে ৪ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ বলে গণ্য হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে এবারের মনোনয়ন বাছাই প্রক্রিয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ওপর বড় ধাক্কা এসেছে। বিশেষ করে খুলনা-৩ ও খুলনা-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের একটি বড় অংশ বাদ পড়েছেন। তবে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের প্রায় সবকটি আসনেই শক্ত অবস্থান বজায় রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তারা চাইলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন। খুলনার এই ছয়টি আসনের নির্বাচনী সমীকরণ এখন কোন দিকে মোড় নেয়, তা আপিল শুনানি এবং প্রতীক বরাদ্দের পরই স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে।