
মো: আল-মাহফুজ শাওন
খুলনা, ১৫ জুলাই: পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় “বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগানকে সামনে রেখে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় দেশব্যাপী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে কেএমপির ১২ হাজার ৫০০ ফলজ, বনজ ও ভেষজ গাছ রোপণ কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রমে অংশ নেন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, বিপিএম-সেবা।
এদিন তিনি খুলনার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বৃক্ষরোপণ করেন এবং পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে পুলিশ কমিশনার বলেন, দেশের সবুজ পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রত্যেক নাগরিকের অন্তত একটি করে গাছ লাগানো উচিত। পরিবেশ রক্ষা, বৃক্ষরোপণ এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণই দেশের প্রতি নাগরিকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আজ যে গাছ রোপণ করা হবে, তার সুফল ভোগ করবে আগামী প্রজন্ম। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় খুলনাসহ সমগ্র বাংলাদেশ আরও সবুজ, সুন্দর ও বাসযোগ্য দেশে পরিণত হবে।
তিনি আরও বলেন, “বন বাঁচলে বাঁচবে নদী, বাজবে প্রকৃতির গান; জীববৈচিত্র্যের প্রতিটি স্পন্দনে লুকিয়ে আছে মানুষের প্রাণ।”
দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে পুলিশ কমিশনার প্রথমে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ) প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেডিএর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা এবং কেডিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এরপর তিনি খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা।
পরবর্তীতে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ হারুন উপস্থিত ছিলেন।
পরে শহীদ হাদিস পার্কে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মঞ্জু, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান এবং সিটি কর্পোরেশনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
এছাড়া খুলনা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাফেজ মো. আব্দুল লতিফসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক অ্যান্ড প্রটোকল, অতিরিক্ত দায়িত্বে অ্যাডমিন অ্যান্ড ফিন্যান্স) মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রেজাউর রহমান, অতিরিক্ত ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) অমিত কুমার বর্মন, সহকারী পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) মো. শফিকুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ কমিশনার (স্টাফ অফিসার টু পুলিশ কমিশনার) মো. গোলাম মোর্শেদসহ কেএমপির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যরা।
কেএমপি জানিয়েছে, পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে তাদের এই বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে।