
যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণেচ্ছুদের জন্য নতুন এক কঠোর নিয়ম জারি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এখন থেকে নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের দেশটিতে প্রবেশের আগে আর্থিক জামানত বা ‘ভিসা বন্ড’ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নতুন তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশি পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের জন্য মার্কিন ভিসা পাওয়া এখন আরও ব্যয়বহুল এবং চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ালো। মূলত ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যারা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন, তাদের নিরুৎসাহিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
ভিসা বন্ড মূলত এক ধরনের আর্থিক নিশ্চয়তা, যা সাময়িক বা নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের নাগরিককে জমা দিতে হবে। মার্কিন প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই জামানতের পরিমাণ আগের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এখন থেকে একজন আবেদনকারীকে তার প্রোফাইল এবং পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে হতে পারে। এই বন্ডের সুনির্দিষ্ট অঙ্ক কত হবে, তা আবেদনকারীর ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার অফিসার নির্ধারণ করবেন।
পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাংলাদেশ ছাড়াও এই তালিকায় দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার মোট ৩৮টি দেশ স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়ম আগামী ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে। তালিকার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে নেপাল, ভুটান, কিউবা, নাইজেরিয়া, ভেনেজুয়েলা এবং উগান্ডা। তালিকায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে ভুটান ও গিনির মতো কিছু দেশে চলতি বছরের শুরু থেকেই নিয়মটি কার্যকর হয়েছে, আবার গাম্বিয়া ও মালউইয়ের মতো দেশগুলোতে গত বছর থেকেই এটি চালু রয়েছে। মূলত বি-১ এবং বি-২ অর্থাৎ ব্যবসা ও পর্যটন ভিসার ক্ষেত্রেই এই নিয়মটি সবচেয়ে বেশি প্রযোজ্য হবে।
এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে ‘ভিসা ওভারস্টে’ বা অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন অবস্থান করা। প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক বিদেশি পর্যটক, শিক্ষার্থী ও কর্মী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজ দেশে ফিরে আসেন না। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এই বন্ড ব্যবস্থা চালুর ফলে ভ্রমণকারীরা তাদের জামানতের অর্থ ফেরত পাওয়ার আশায় সময়মতো দেশ ছাড়তে বাধ্য হবেন। এর আগেও নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য এমন পদ্ধতি চালুর চিন্তাভাবনা বা উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত তা পুরোপুরি কার্যকর বা স্থায়ী করতে পারেনি। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এবার কঠোরভাবে এটি বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে।
আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য এই নিয়ম কার্যকর হলে মার্কিন ভিসা প্রক্রিয়া আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়ার পাশাপাশি এই মোটা অঙ্কের ডলার বন্ড হিসেবে জমা রাখা সাধারণ ভ্রমণকারীদের জন্য বড় একটি বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফলে পর্যটন কিংবা জরুরি ব্যবসায়িক প্রয়োজনে যারা যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের এখন থেকেই এই অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয়ের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।