
অভাবের সংসারকে স্বচ্ছল করার স্বপ্ন নিয়ে প্রায় আট বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার মোশাররফ হোসেন। প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারকে ভালো রাখার চেষ্টা করছিলেন তিনি। কিন্তু দূর প্রবাসে কর্মরত অবস্থায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় থেমে গেল তার জীবনসংগ্রাম।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরবের আল খারিজ শহরের পাশে একটি কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করতেন মোশাররফ। পরিবারের অভাব ঘোচাতে দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থেকে উপার্জন করছিলেন তিনি।
মোশাররফ হোসেনের বাবা মো. সূর্যত আলী গ্রামে কৃষিকাজ করেন। পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী ছিলেন মোশাররফ। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো পরিবার এখন দিশেহারা।
মোশাররফের স্ত্রী কবরী আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই স্বামীর সঙ্গে তার কথা হয়েছিল।
তিনি বলেন,
“রাতে কথা হয়েছিল। তিনি বলছিলেন ঈদের জন্য টাকা পাঠাবেন, ছেলে দুজনের জন্য কিছু কিনতে। কে জানত সেই কথাই হবে শেষ কথা!”
পরিবারের সদস্যরা জানান, রাত প্রায় ৩টার দিকে মোশাররফের মৃত্যুর খবর আসে। সেই খবর শোনার পর থেকেই শোকের মাতম নেমে এসেছে পুরো পরিবারে।
মোশাররফের ছোট ছেলে মিহান নানার কোলে বসে অবাক দৃষ্টিতে চারপাশের মানুষের কান্না দেখছে। হয়তো এখনো বুঝে উঠতে পারেনি, তার বাবা আর কোনোদিন ফিরে আসবেন না।
এদিকে ঘটনাটি জানতে পেরে নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল রনী। তিনি জানান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত মরদেহ দেশে আনার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিহতের পরিবারকে দ্রুত আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হোক।